কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী
দেড় মাসে ১১ ডাকাতি জনমনে আতঙ্ক
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় গত দেড় মাসে অন্তত ১১টি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট হয়েছে। সম্প্রতি এক বাড়িতে মা ও মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক এমন ডাকাতির ঘটনায় শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা দায়িত্বে না থাকায় প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি গ্রামপুলিশ ও চৌকিদারদের রাতের পাহারাও আগের মতো সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এই এলাকায় কেন এমন নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটছে তা বের করতে পারছে না পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী, বরইতলী, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ইসলামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মাতামুহুরী উপজেলার শাহারবিল, কোনাখালী ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও ডাকাতি ও সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, অধিকাংশ ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট হলেও সেগুলো উদ্ধারের ঘটনা খুবই সীমিত। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকটি ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান বলেন, ‘তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। হারবাং ছড়া সেতু এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনগণকে সচেতন হয়ে রাতে পাহারায় অংশ নিতে হবে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।’
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কাদ্দাচোরা ও চৌয়ারফাঁড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, ‘অতীতে আলোচিত কয়েকজন সন্ত্রাসী আড়ালে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত নৈশ টহল, অভিযান ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করছে। অপরাধ সংঘটিত হলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবগঠিত মাতামুহুরী থানার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।’
- বিষয় :
- আতঙ্ক
