ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ

চেয়ারম্যানের এক চেয়ারে ৯ নেতার চোখ

চেয়ারম্যানের এক চেয়ারে  ৯ নেতার চোখ
×

 শৈবাল আচার্য্য

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নিয়োগের পর এবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত জেলা পরিষদে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। পদটি পেতে দলের বিএনপির অন্তত নয়জন নেতা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মৌসুমি বা সুযোগসন্ধানী কাউকে চেয়ারম্যান বানালে বিএনপির ভেতর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কেউ কেউ ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে তদবির করছেন। আবার অনেকে ঢাকায় গিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলের জন্য ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অবদানের বিষয়গুলোও বিভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।

গত ১১ জুন সরকার উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এর আগে তাকেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন একজন বিএনপি নেতার নাম ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের কার্যক্রম। প্রায় দুই বছর ধরে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য থাকায় এবার নতুন নিয়োগ নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এসএম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীন সিকদার।

এস এম ফজলুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে সেখানে মনোনয়ন পান বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজান আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন গোলাম আকবর খোন্দকার। পরে দলীয় প্রতীক দেওয়া হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দলের দুঃসময়ে ভূমিকা–সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হবে। শুধু দল ক্ষমতায় এসেছে বলেই যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমনটি নয়।’
চট্টগ্রামের আরেক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বলেন, ‘অনেক প্রবীণ ও নবীন নেতা চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী। কেউ কেউ মন্ত্রী-এমপিদের মাধ্যমেও তদবির করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ্য ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। এবার দলের মূল্যায়ন পাব বলে আশা করছি। তবে কোনো মৌসুমি বা সুযোগসন্ধানী নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এর প্রতিবাদে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।’
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। অনেকে প্রকাশ্যেই বলছেন, খুব শিগগির তাদের দলের নেতা চেয়ারম্যান হয়ে আসছেন। জেলা পরিষদ জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাই এ পদে যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ছাড়াও ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ২১টি পদ রয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে ১৫টি উপজেলায় ১৫টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তখন মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৭৩০ জন।
 

আরও পড়ুন

×