৫ কোটি টাকায় সংস্কারের পরও বেহাল সড়ক
কয়েকদফা বন্যায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে রামগতি-চেওয়াখালী সড়কে, এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সমকাল
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সংস্কার শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। বর্ষার কয়েকদফা বৃষ্টির পর রামগতি-চেওয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং, তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ ও অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নতুন সড়কটি অল্প সময়েই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রামগতি-চেওয়াখালী সড়কটি দুই ধাপে সংস্কার করা হয়। প্রথম ধাপে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রামগতি বাজার থেকে সৈয়দ মৌলভীবাজার পর্যন্ত ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে সৈয়দ মৌলভীবাজার থেকে চেওয়াখালী সেতু পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দেন।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, রামগতি কলেজ রোড, মনু মার্কেট, মুন্সিরহাট বাজার, বান্দেরহাট বাজার, গুচ্ছগ্রাম বাজার ও আজাদনগর সেতুসংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে রামগতি থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। আগে যেখানে প্রায় ৪০ মিনিটে যাতায়াত সম্ভব ছিল, এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
রামগতি বাজারের ব্যবসায়ী বিজয় মাহমুদ মামুন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের এমন অবস্থা হতাশাজনক। দ্রুত সংস্কার না হলে পুরো সড়কই নষ্ট হয়ে যাবে।’ বড়খেরী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ওজনের ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণেই পিচ উঠে গেছে। ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে বারবার সংস্কার করেও লাভ হবে না।’
চর আফজল এলাকার বাসিন্দা মো. সাবিদ বলেন, ‘এই সড়কে ১৪ থেকে ১৫ টনের বেশি ওজনের যান চলাচলের কথা নয়। অথচ প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন ওজনের অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। এতে নতুন সড়কও টিকছে না।’ সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. রাসেল বলেন, ‘সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়, সময় ও জ্বালানি দুই-ই বেশি খরচ হচ্ছে।’
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইউনুস দাবি করেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বিশেষ করে ৩৩টি ইটভাটার ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে বিভিন্ন স্থানে ফাটল তৈরি হয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে। কয়েক দফা মেরামতও করা হয়েছে। ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, ‘সংস্কারের পরপরই অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন ইটভাটা থেকে ৪০ টনেরও বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল করছে, যা গ্রামীণ সড়কের জন্য উপযোগী নয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- সড়ক