ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিজ্ঞানীদের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শাহেন শাহ

বিজ্ঞানীদের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শাহেন শাহ
×

গবেষক ও অধ্যাপক শাহেন শাহ - ছবি : সংগ্রহ

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৪

শাহেন শাহ। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইলদিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। টানা তিন বছর নেটওয়ার্কিং ও টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণায় বিশেষ অবদান রেখে বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীর তালিকায় উঠে এসেছেন। গত জুলাইয়ে সাহস-এ তাঁর গবেষণা উদ্ভাবন নিয়ে প্রচ্ছদ আয়োজনও করা হয়েছিল। তরুণ এই গবেষক তাঁর সাম্প্রতিক অর্জন নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের সঙ্গে। লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও এলসেভিয়ারের তথ্যভিত্তিক বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইলদিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. শাহেন শাহ বিশ্বের শীর্ষ ১% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং টানা তিন বছর নেটওয়ার্কিং ও টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণায় শীর্ষস্থান ধরে রাখার পর এবার তিনি পৌঁছেছেন এই শীর্ষ আসনে।  

যেই তথ্যের ভিত্তিতে...
এই স্বীকৃতি এলসেভিয়ার স্কোপার্সের তথ্যের  ওপর ভিত্তিতে তৈরি। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এই তথ্য বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করেছে। তারা বিশ্বসেরা উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের একটি উন্মুক্ত ডেটাবেস তৈরি করেছে। এতে উদ্ধৃতি, এইচ-ইনডেক্স, সহ-লেখক সূচক ও যৌগিক সি-স্কোর অন্তর্ভুক্ত আছে। বিজ্ঞানীদের ২২টি ক্ষেত্র ও ১৭৪টি উপক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে; যাদের অন্তত ৫টি গবেষণা প্রবন্ধ আছে, তাদের জন্য পার্সেন্টাইল প্রকাশ করা হয়। তথ্য ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে। শীর্ষ ১,০০,০০০ বিজ্ঞানী এবং প্রতিটি ক্ষেত্রের শীর্ষ ২% গবেষক এতে অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত স্কোপাসের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই তালিকায় ড. শাহ নেটওয়ার্কিং ও টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে ২১৭,৩১৯ গবেষকের মধ্যে ১,৬৩৩তম স্থানে আছেন। মানে শীর্ষ ১% বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে তিনি স্বীকৃত।

বর্তমানে যা করছেন এই গবেষক
শাহেন শাহ ২০২০ সালে তুরস্কের ইলদিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স এবং যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনা করছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নেক্সট-জেনারেশন ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ল্যাবরেটরি বা এ. এন. ডব্লিউ. সি. এল-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিএইচডির কাজের জন্য শাহেন শাহ ৩২তম আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ২০২১ সালে আইটেক্স স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ৬জি প্রযুক্তি উন্নয়নে

এছাড়াও তিনি তুরস্কের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা কাউন্সিল টুবিটাক-এর বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁর ৩৫০১ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ড্রোন যোগাযোগের জন্য নতুন ধরনের হাইব্রিড প্রোটোকল তৈরি করা হচ্ছে, যা দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ৬জি প্রযুক্তি উন্নয়নেও কাজ করছেন। তাঁর আরেকটি টুবিটাক ১০০১ প্রকল্পে মাইমো প্রযুক্তির সঙ্গে ইন্টেলিজেন্ট রিফ্লেক্টিং সারফেস ও ফ্লুইড অ্যান্টেনা ব্যবহার করে ৬জি যোগাযোগ আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। 

কাজের ক্ষেত্র
ভূমিকম্প, বন্যা, পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে ব্যাহত হয় উদ্ধারকাজ। এতে বাড়ে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। দুর্যোগকালীন এই ক্ষয়ক্ষতি রোধে ড্রোনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সচল রাখার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন শাহেন শাহ। ইতোমধ্যে তুরস্কের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হুরিয়াত, ইংরেজি দৈনিক সাবাহ, প্রধান টিভি চ্যানেল টিআরটি হাব গুরুত্বসহকারে প্রচার করেছে তরুণ এই বাংলাদেশির উদ্ভাবনের খবর। শাহেন শাহ বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন বিজ্ঞান বই পড়তাম তখন ভাবতাম, বড় হয়ে বিজ্ঞানী হব। অনেক কিছু আবিষ্কার করব; যা মানুষের কল্যাণে যুগের পর যুগ ব্যবহার হবে।’ লক্ষ্মীপুরে বেড়ে ওঠা ছোট্ট শাহেন শাহর সেই ভাবনা যেন সত্যি হয়েই ধরা দিল! 

বাংলাদেশেও ব্যবহার সম্ভব
বাংলাদেশে প্রায়ই বন্যা হয়। গত বছর বন্যায় লক্ষ্মীপুর, ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছিল। এমন অবস্থায় শাহেন শাহর উদ্ভাবন কাজে লাগানো সম্ভব। শাহেন শাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার উদ্ভাবিত নেটওয়ার্ক সচল রাখার ব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে। এ জন্য বাড়তি কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। এই নিয়েও আমি কাজ করছি।’ 

আগামীর ভাবনা
আগামীর স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে শাহেন শাহ বলেন, ‘আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। দেশের প্রয়োজনে যদি কাজ করার সুযোগ হয়, তাহলে অবশ্যই এগিয়ে আসব।’ u
 

আরও পড়ুন

×