ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লেগে থাকুন, সাফল্য আসবেই...

লেগে থাকুন, সাফল্য আসবেই...
×

হোসে সারামাগো - ছবি : অনলাইন

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

হোসে সারামাগো। নোবেলজয়ী পর্তুগিজ সাহিত্যিক। ‘দ্য গোস্পেল অ্যাকোর্ডিং টু জিসাস ক্রাইস্ট’, ‘ব্লাইন্ডনেস’, ‘দ্য এলিফ্যান্টস জার্নি’ প্রভৃতি বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের স্রষ্টা। সর্বকালের অন্যতম সেরা এ পর্তুগিজ সাহিত্যিকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম

উপন্যাসের আইডিয়া আমার মাথায় হুট করেই আসে। ‘ব্লাইন্ডনেস’-এর কথাই ধরা যাক। একদিন অর্ডার দিয়ে, মধ্যাহ্নভোজের অপেক্ষায় একটি রেস্টুরেন্টে বসে ছিলাম। হুট করেই মাথায় এলো– আচ্ছা, এখানকার সবাই যদি অন্ধ হতো, কেমন হতো তবে? নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি অনুভব করলাম, আমরা তো ‘প্রকৃত’ অর্থেই অন্ধ। এই ছিল উপন্যাসটির ভ্রুণ। তারপর এটিকে জন্ম দিতে, ভাবনার জগতে আনুষঙ্গিক বিষয়-আশয় আর ঘটনাবলি জুড়তে থাকলাম। ঘটনাগুলো ভয়ংকর ছিল যদিও, তবু তাতে যুক্তি ছিল জোরালো। বস্তুতপক্ষে, ‘ব্লাইন্ডনেস’-এ কল্পনা খুব বেশি নয়; বরং নানা ঘটনা ও তার প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কটির একটি সিস্টেম্যাটিক অ্যাপ্লিকেশন করা হয়েছে।

স্বস্তিদায়ক এবং দ্রুতগতির পথে
টাইপরাইটারে লিখতেই অভ্যস্ত ছিলাম। একটা ক্ল্যাসিক টাইপরাইটারে লেখা আমার সর্বশেষ উপন্যাস ‘দ্য হিস্টোরি অব দ্য সাই অব লিসবন’। সত্যি কথা হচ্ছে, কম্পিউটারের কি-বোর্ডে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে আমাকে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। শুনেছি, কম্পিউটার নাকি আমার মতো পুরোনো দিনের লেখকদের লেখালেখির স্বতঃস্ফূর্ততাকে নষ্ট করে দেয়। আমার কিন্তু তা মনে হয় না। বরং টাইপরাইটারের মতো কম্পিউটারের কি-বোর্ডের প্রতিও আমি যতটা কম সম্ভব দ্বারস্ত হই। টাইপরাইটার দিয়ে যা করতাম, কম্পিউটার দিয়ে সেটিই করি। এ দুটির মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে, কম্পিউটার তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন, অধিক স্বস্তিদায়ক এবং দ্রুতগতির।
একটি লেখা শুরু করার আগে কী লিখতে চাই আর কোথায় গিয়ে থামতে চাই–সে ব্যাপারে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকে আমার। কঠোর কোনো পরিকল্পনা আমি ঠিক করি না। শেষ পর্যন্ত আমি সেটিই বলি, যা বলতে চেয়েছি শুরুতে। এই বলার ভঙ্গিমা হয়তো এক থাকে না। আমি যা বলতে চাই, সেটি প্রায়ই উপমার ভেতর দিয়ে বলি। ধরুন, লিসবন থেকে পোর্তো শহরে যাব আমি– এটি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি। ঠিক সোজা পথে যাব, নাকি অন্য কোনো পথে–সেটি লিখতে লিখতেই ঠিক করে নিই।

ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলি না
একটি লেখা শেষ হলে সেটি আবার পড়ি। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ছোটখাটো কিছু সংশোধন করি। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন করি না। লেখার প্রায় ৯০ শতাংশই অপরিবর্তিত রেখে দিই। কেউ কেউ ২০ পৃষ্ঠায় আটকে গেলে মোড় বদলে তা ৮০ পৃষ্ঠায় টেনে নিয়ে যান। একসময় ২০০ পৃষ্ঠায় গিয়ে থামেন। আমি এমনটা করি না। আমার যে কোনো বই লেখা শুরু হয় একটি বই হিসেবে। এভাবেই সেটি বেড়ে ওঠে। যেমন ধরুন, নতুন একটি উপন্যাসের ১৩২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখেছি আমি। এটিকে কিছুতেই টেনেহিঁচড়ে ১৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলি না। যেটুকু  লিখি তার মধ্যে হয়তো খানিকটা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। এটিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলি না।

লেগে থাকাই আমার কাজ
লেখা শেষে একেবারেই স্বাভাবিক থাকি। বদ অভ্যাস নেই আমার। নাটকীয় কিছু করেও বসি না। সবচেয়ে বড় কথা, লেখালেখির কাজটি আমার জন্য কোনো রোমান্টিসিজম নয়। সৃষ্টিশীলতার সময় যে যাতনার ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হয়, সেগুলো নিয়ে কখনোই মুখ খুলি না। রাইটার ব্লক বা লিখতে না পারা–এ ধরনের কথা অন্য লেখকদের সম্পর্কে আমরা অহরহ শুনলেও, এ ব্যাপারে আমার মনে কোনো ভয় কাজ করে না। 
যেভাবে লিখতে চাই, কখনও কখনও ঠিক সেভাবে পেরে উঠি না। এমন মুহূর্ত যখন আসে, তখন ভালোই লাগে। লেখালেখি না চালিয়ে বরং তাতে ইতি টেনে দিই। আমার এই ধারাবাহিকতার প্রধান হাতিয়ার লেগে থাকা। আমি সবসময় আমার কাজে লেগে থাকি। কারণ, আমি জানি, এটিই আমার কাজ, এখানেই আমাকে লেগে থাকতে হবে। 

আরও পড়ুন

×