ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সচেতনতা

আত্মরক্ষায় বারবারা মার্কোয়ের সমাধান

আত্মরক্ষায় বারবারা মার্কোয়ের সমাধান
×

ঠান্ডা মাথায় ভেবে কথার উত্তর দিন... ছবি: সাহস

শাকিলা ইসরাত

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

শীত এসে গেছে। পিনপিনে শীতের বাতাসে পথ চলতে গিয়ে কানে ভেসে আসে ঘাই-ঘুই শব্দ! এগিয়ে গিয়ে দেখলেন একটি কুকুরছানা নালায়। তা দেখে আপনার ভেতরের মানুষটা জেগে উঠল। আদুরে কুকুরছানাটিকে বাসায় নিয়ে যেতে ইচ্ছা হলো। তাকে তুলতে এগিয়ে যেতেই অমনি তেড়ে আসতে চাইল সে। তখন কেমন লাগবে? তবু তাকে তুলতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। সে চলে গেল তার মতো করে। একদিন ফের কুকুরছানাটিকে দেখলেন। তাও তার বিপদ। ফাঁদে আটকে আছে পা। তার জন্য করুণা হলো। যদিও সে রেগে আছে। আপনি জানেন, পায়ের ব্যথা এবং কষ্টের কারণে সে এমন করছে।

বরং বড় করে নিঃশ্বাস নিন
আগের আর পরের দুটি কারণকে কীভাবে নেবেন আপনি? কুকুরছানার সঙ্গে আপনি ভালো আচরণই করতে চেয়েছেন। তাকে বিপদ থেকে টেনে তুলতে চেয়েছেন। সে বুঝতে চাইছে না। তাই এমন অস্বাভাবিক আচরণ; কিন্তু আমরা তো অনেক কিছু বুঝতে পারি। আমাদের অনেকে সহযোগিতার হাত না বাড়ালেও বিপদের দিনে উল্টো দূর দূর করে সীমানার ওপারে তাড়িয়ে দিয়ে আসতে চায়। এমন পরিস্থিতি কিংবা এমন আচরণ যাদের কাছ থেকে পান। তাদের সঙ্গে আপনি কেমন আচরণ করবেন? বলি, কথায় আছে–‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ রাগারাগি না করে এবং তার দোষত্রুটি না খুঁজে বরং বড় করে নিঃশ্বাস নিন। 

বারবারা মার্কোয়ের ব্যাখ্যা
গল্পটির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী বারবারা মার্কোয়ে। তাঁর ভাষায়, জন্মগতভাবেই আমরা আত্মরক্ষার ব্যাপারে খুবই সচেতন। এতে নিজেকে দোষারোপ করার কিছু নেই। যখন কেউ আমাদের সঙ্গে নেতিবাচক কিংবা অশুভ আচরণ করে তখন তা আমরা মেনে নিতে পারি না। বরং আমরাও পাল্টা রুঢ় আচরণ করি। বোঝার চেষ্টা করি না, এ ব্যবহারের পেছনে কোনো কারণ বা স্বার্থ আছে কিনা? এ ক্ষেত্রে প্রাণীদের কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়াটা তো স্বাভাবিকই। তাই তাদের দিকে আঙুল না তুলে নিজের দিকেই আঙুল তুলুন। আলোচনায় শুধু নিজেকেই রাখুন। নেতিবাচক এবং অশুভ আচরণের মুখোমুখি হলে তাৎক্ষণিক কিছু বলার আগে নিজেকে শান্ত করুন। আপনার আচরণ স্বাভাবিক করে আগে জানার চেষ্টা করুন এমন আচরণের কারণটা কী।

মোটা দাগের বৈশিষ্ট্য
আমাদের মোটা দাগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, অন্যকে জাজমেন্ট করা। এতেই শেষ নয়; খুব দ্রুত তার একটা নেতিবাচক সমাধান বের করে ফেলা। কাউকে তাৎক্ষণিক বিচার করা যায় না। এটি মাথায় রেখেই আপনাকে এগোতে হবে। না হয় গড় মানুষের তালিকায় পড়ে জীবন থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে বসবেন। দিন দিন অন্যের সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ হয়ে উঠবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে স্বার্থপর হিসেবে আবিষ্কার  করতে পারবেন। যদিও তখন আপনার ভেতর থেকে এমন জাজমেন্টের গুণাবলি হারিয়ে যাবে। তাই কাউকে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে একটু সময় নিন। পারলে আপনার পছন্দের কফি কিংবা কোল্ড ড্রিংক নিয়ে বসুন। ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। তারপর তার কথা কিংবা মেইলের উত্তর দিতে বসুন। 

আরও পড়ুন

×