সচেতনতা
আপনিও ছুটছেন এসবের পেছনে?
যে কোনো স্বপ্নের পেছনে ছোটার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, স্বপ্নটা আপনার? ছবি : সাহস
শাকিলা ইসরাত
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
কোনো কিছুর পেছনে ছুটতে গিয়ে যখন আমরা বর্তমান থেকে নিজেদের সরিয়ে ফেলি তখন ভবিষ্যৎ এবং অতীত দুটোই আপেক্ষিক। ভবিষ্যৎকে দেখতে পারি না এবং অতীতকেও ফিরিয়ে আনতে পারি না। তাই সবচেয়ে অর্থবহ মুহূর্ত হচ্ছে বর্তমান, যেখানে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো খুঁজে পাই। এর ভেতরও কিছু বিষয় অন্যদের মতো আপনাকে সুখী এবং সফল করে তুলবে। তবে ভালো করে চিন্তা করলে এবং নিজের সম্পর্কে নিজে সিদ্ধান্ত নিলে সেই বিষয়গুলোর পেছনে ছুটবেন না। চলুন দেখে নিই কোন বিষয়গুলোর পেছনে ছোটা উচিত নয়–
স্বপ্ন ধাওয়া করা
কোনো স্বপ্নের পেছনে ছোটার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, স্বপ্নটা আপনার। অনেকেই আছেন যারা জীবনে যা চায়, তা পায় না। এর প্রধান কারণ তারা তাদের নিজেদের চাওয়াকে প্রাধান্য দেয় না। তারা অন্যদের চাওয়াকে নিজের মধ্যে প্রতিফলিত করতে চায়। তাই অন্যের নয়, ছুটতে হবে নিজের স্বপ্নের পিছনে।
নিরাপত্তা
আমরা সবসময় ক্ষতি থেকে দূরে থাকতে চাই। তাই জীবনে ঝুঁকি নিতে চাই না। ঝুঁকি না নেওয়াতে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাই। এই নিরাপত্তার পেছনে ছোটা আমাদের জীবনে কোনো সাফল্য আনে না। বরং পরিবর্তনের ভয়, কমফোর্ট জোনে থাকা আমাদের গ্রোথকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা লক্ষ্য থাকে। সেই নিরাপত্তার খোঁজে আমরা সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরে আসি।
টাকা
আমরা প্রায়ই টাকার পেছনে ছুটি। তা কিন্তু সবসময় আমাদের জীবনে সুখ বয়ে আনে না। অবশ্যই জীবন-যাপনে অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন। তাই বলে শুধু টাকার পেছনে দৌড়ানো আমাদের সত্যিকারের আবেগ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং নিজের মধ্যে শূন্যতা সৃষ্টি করে। সবার উচিত জীবনকে সহজ করে গড়ে তোলা এবং যে যেই কাজ করতে ভালোবাসে তা মন দিয়ে করা। এতে টাকাই তার পেছনে দৌড়াবে।
সুখ
আমাদের অনেকেই ভাবেন, বড় বাড়িতে থাকলে, ব্যান্ডের পোশাক পরলে, নতুন গাড়ি চালালে মানুষ সুখী হয়। বাস্তবে এসব জিনিস সবসময় সুখ বয়ে আনে না বরং একাকিত্ব বাড়িয়ে দেয়। তাই তো আমরা এসব মূল্যবান সম্পদ না কিনে ছুটিতে ঘুরতে যেতে পছন্দ করি।
কাজ
আমেরিকা এবং জাপানের মতো দেশে অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা হয়। এতে কাজের সময় বেড়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের পরিমাণ কমে যায়। এতে পরিবারের সুখ-শান্তি নষ্ট হয়। আজকাল প্রায় সব জায়গায় কাজের চাপ বেশি। সপ্তাহে কাজের দিনগুলো ছাড়াও উইকএন্ডেও কাজ করা লাগে। যাদের ভাগ্য ভালো এবং উইকএন্ডে অফিসে যাওয়া লাগে না, তারাও বাসায় বসে প্রয়োজনীয় ইমেইল চেক করেন, কিংবা অফিসের প্রয়োজনে ফোনে ব্যস্ত থাকেন। এতে কাজের আগ্রহ কমে যায়। একটি রিসার্চে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না করে মাঝে মাঝে ব্রেক নিলে প্রডাক্টিভিটি বেড়ে যায়। তাই সবসময় কাজের মধ্যে ডুবে না থেকে মেডিটেশন, যোগ ব্যায়াম, হাঁটতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি কাজে সময় দেওয়া উচিত। এতে শরীর-মন দুটোই ভালো থাকে।
বাহ্যিক সৌন্দর্য
অনেকেই বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি, যা মোটেও ঠিক না। অনেকেই নিজেদের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায়। জিম, হেয়ার রিবন্ডিং–এমনকি অপারেশন করিয়ে থাকে। এই বাহ্যিক সৌন্দর্য সাময়িক এবং তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায়। তাই আমাদের ভেতরকার সৌন্দর্য খোঁজ করা উচিত।
তারুণ্য
যত দিন যায়, আমাদের বয়স বাড়তে থাকে। আয়নায় তাকালে নিজের ঝোলানো চোখের পাতা, পাকা চুল, কপালের ভাঁজ দেখে আঁতকে ওঠেন অনেকেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। আমরা যদি যৌবনের পেছনে ছোটাছুটি করি, তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আসা জ্ঞানকে গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। মনে রাখতে হবে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না।
- বিষয় :
- সাবধান
