ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রেরণা

জীবনের পাঠই হোক এগিয়ে চলা

জীবনের পাঠই হোক এগিয়ে চলা
×

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৬:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রায়ান চার্লস লারা। যিনি ব্রায়ান লারা নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে রেকর্ডধারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সাবেক ক্রিকেটার। সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ক্রিকেটারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের সময়টায় আমার ক্রিকেট খেলা শুরু। তখনও আমি বিশ্বাস করতাম, নিজের খেলাটা ঠিকঠাক খেলতে পারলে, দেশের পতাকা আবারও পতপত করে উড়বে। ফলে নিজের ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি টেস্ট ম্যাচ, প্রতিটি এক দিনের ম্যাচ, বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলা আমি উপভোগ করেছি। একমাত্র বেদনার জায়গা হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কোনো বিশ্বকাপ জিততে না পারা।
একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বেঁচে থাকার মতো একটা জীবন আমি পেয়েছি; এতেই খুশি। আমি মনে করি, একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ কিংবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার নিজের পরিবার। এই মানুষদের ওপরই আপনি ভরসা করতে পারবেন–বিশেষ করে সেই দিনগুলোতে, যখন আপনার সামনে ঘোর অমানিশা। নিজের চারপাশে এমন অগুনতি শান্ত মানুষ পেয়েছি বলে আমি সৌভাগ্যবান। জানেন হয়তো, সাত ভাই ও চার বোনের বড় সংসারে আমি দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম। ভাইবোন আর বাবা-মার সঙ্গে শৈশব থেকেই সম্পর্কটা বেশ মধুর আমার। যদিও মাঝেমধ্যে মনে হয়, তাদের প্রশ্রয়ে নিজেকে কখনও কখনও একটু বেশি মাত্রায়ই বিশৃঙ্খল করে রেখেছিলাম! 

নিশ্চয়ই আবারও মুখোমুখি হবো তাঁর 
আমি কেমন খেলছি–এ ব্যাপারে মায়ের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তিনি শুধু এই দুশ্চিন্তায় ভুগতেন, খেলতে গিয়ে তাঁর ‘পুঁচকে’ ছেলেটা কোনো ব্যথা পেল কিনা! তাঁর মৃত্যুতে তাই ভেঙে পড়েছিলাম আমি। তবু, হয়তো বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছি। আর নিজেকে সান্ত্বনা দিই এই ভেবে–যেখানে আছেন; নিশ্চয় ভালো আছেন তিনি। আর কোনো-না-কোনোভাবে, একদিন নিশ্চয়ই আবারও মুখোমুখি হবো তাঁর। 

নিজেকে মানিয়ে নেওয়া
একবার ভারতের বিপক্ষে এক সিরিজে পরপর ম্যাচে একবার স্লিপে আরেকবার উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গিয়েছিলাম। ইনজুরির কারণে আমার কব্জিতে জোর কমে গিয়েছে বলেই ইন-ফ্রন্ট খেলার বদলে, বলের গতি ব্যবহার করে উইকেটের পেছনে খেলতে চাওয়ার কারণেই এমনটা ঘটেছে; বুঝতে পারলাম। তাই পরের ম্যাচেই ইনজুরির ব্যথাকে পাত্তা না দিয়ে ঠিক করলাম, নিজের সর্বশক্তি জড়ো করে, ব্যাটের ফুল-ফেসে খেলতে থাকব। আমি মনে করি, যে কোনো অবস্থায় একজন ব্যাটসম্যানের তার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলা ভালো। অন্যদিকে, টেস্ট ক্রিকেটে কেউ যদি ৪০-৫০ মিনিট মাঠে কাটিয়ে ৫-১০ রান করে; সেটিই ভালো। কেননা, এতে একটি বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়। নিজেকে ইনিংসের সঙ্গে মানিয়ে না নিয়ে, শুরুতেই হাত চালিয়ে খেললে এ ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। 

নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়েছি পথ
ক্যারিয়ারের কোনো বিশেষ মুহূর্তকে এভাবে বেছে বেছে আলাদা করার কোনো মানে আছে বলেও মনে করি না আমি। দেখুন, গলফার টাইগার উডসের দিকে যদি তাকান, জানবেন, পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করার আগে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন তিনি। এমনকি রেখেছিলেন মনোবিদও। যদিও বিষয়টি ভালোই লেগেছে, তবে আমার ক্ষেত্রে এমনটা কখনও হয়নি। খেলতে খেলতে ভয়ংকর কিছু ভুল করে বসেছি আমি; হারিয়ে ফেলেছি খেই কখনও। আবার সেই ভুল থেকে, নিজের মতো শিক্ষা নিয়েই এগিয়েছি পথ। এ ক্ষেত্রে আমি নিজেই ছিলাম নিজের মনোবিশেষজ্ঞ। যে কেউ নিজের জীবন অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য পাবেই; অন্তত আমি এটা বিশ্বাস করি! 

আরও পড়ুন

×