ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সচেতনতা

শরীরে ট্যাটু: যা করবেন

শরীরে ট্যাটু: যা করবেন
×

ট্যাটু শরীরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুললেও ভেতরে বিষ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ায়... ছবি: সাহস

শাকিলা ইসরাত 

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের আলোচিত বিষয় ট্যাটু। পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রচলন হলেও ট্যাটু দৌড়ে আমরাও এখন কম যাই না! শরীরে ট্যাটু আঁকা আমাদের দেশেও শিল্পে পরিণত হয়েছে। তবে এই কমন বিষয়টার আড়ালে ভালোর চেয়ে মন্দটাই বেশি ঘাপটি মেরে থাকে। ট্যাটুর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আর আগেপরের সাবধানতার মুখোমুখি হই; চলুন–

ভাবতে হবে যে বিষয়গুলো...
ট্যাটু করার আগে সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি শরীরে স্থায়ী নাকি অস্থায়ী চিহ্ন বা নকশা আঁকাতে চান। যদি মনে কোনো সংশয় থাকে তবে ট্যাটু না করাই ভালো। কারও প্ররোচনায় ট্যাটু করলে পরে আফসোস করতে হবে। প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর ভাবুন যে শরীরের কোথায় এবং কী ট্যাটু করাবেন। আপনার ট্যাটু দৃশ্যমান হবে নাকি কাপড়ের ভেতরে ঢাকা থাকবে–এসব ভেবে পথে নামুন। তাছাড়া ওজনের কথাটাও মাথায় রাখুন। ওজন বাড়া-কমায় চামড়ার যেই পরিবর্তন আসে তার প্রভাব ট্যাটুতেও পড়ে।  

ট্যাটু দৌড়ের আগে
ট্যাটু দৌড়ে নামার আগে আরও কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। শুরুতেই আপনার সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিন। তারপর আপনি কাকে দিয়ে ট্যাটু করাবেন। প্রশিক্ষিত লোক ছাড়া নিজে বা আনাড়ি কাউকে দিয়ে ট্যাটু করাবেন না। ট্যাটু আর্টিস্টকে গ্লাভস পরে ট্যাটু করতে বলুন। এই গ্লাভসের ফলে সংক্রমণের হাত থেকে বেঁচে যাবেন। আর্টিস্টের যথাযথ যন্ত্রপাতিসহ ট্যাটুর রং, সুঁই সবই দেখে নিন। এসব যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত না হলে ক্ষতিটা আপনাকেই বয়ে বেড়াতে হবে। 

যেভাবে হয়
ট্যাটু হচ্ছে চামড়ার ওপরের স্তরে রংজাতীয় পিগমেন্টের ব্যবহারে আঁকা স্থায়ী চিহ্ন বা নকশা। সাধারাণত ট্যাটু আর্টিস্ট হাতে ধরা যায় এমন সেলাই মেশিনের মতো যন্ত্রের এক বা একাধিক সুঁই দিয়ে চামড়ার ওপর ফুটো করে ট্যাটু আঁকেন। প্রতিটি সুঁই-এর ফুটো দিয়ে চামড়ায় কালি চলে যায়। অ্যানেস্থিশিয়া না করলে ট্যাটু করার সময় কিছুটা রক্তপাত আর বেশ ব্যথা করে।

ঝুঁকি
–চামড়ার ওপর ট্যাটু করায় চামড়াতেই সবার আগে বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। একটু হেলাফেলা হলে চামড়ার ইনফেকশন থেকে শুরু করে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।  
–তাছাড়া বিভিন্ন রং-এর ব্যবহারে বিশেষ করে সবুজ, লাল, হলুদ, নীল রং-এর ব্যবহারে চামড়ায় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শুধু তাৎক্ষণিক নয়, ট্যাটু আঁকার কয়েক বছর পরেও এই সমস্যা হতে পারে।
–ঠিকঠাক ট্যাটু না আঁকলে চামড়া লাল হয়ে জ্বালাপোড়া করতে পারে। এছাড়াও ট্যাটুকে ঘিরে চামড়া ফুলে উঠতে পারে–এমনকি ভয়ংকর রোগও হতে পারে।
–জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতির ব্যবহার না করে ট্যাটু করলে রক্তবাহিত রোগ হতে পারে। এরমধ্যে টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদির মতো ভয়াবহ রোগও রয়েছে। 
–কিছু কিছু ক্ষেত্রে চামড়ার অংশ বিশেষ নষ্ট হয়ে যায়। এমন হলে অপারেশন অথবা সুচিকিৎসায় ট্যাটু মুছে ফেলুন। 

যত্ন পাক আপনার ট্যাটু 
কীভাবে যত্ন নেবেন ট্যাটুর তা নির্ভর করে এর প্রকৃতি আর কীভাবে এর কাজ করা হয়েছে তার ওপর। এই দুক্ষেত্রেই আপনাকে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তা হচ্ছে–
–ট্যাটু করানোর ২৪ ঘণ্টা পর ব্যান্ডেজ খুলবেন। তারপর ট্যাটুতে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগান; যাতে কোনো সংক্রমণ না হয়। 
–ট্যাটু করা জায়গাটা পরিষ্কার রাখুন। গোসলে সরাসরি পানি যেন ট্যাটুতে না পড়ে তা মাথায় রাখুন।  
–কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
–ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
–ট্যাটু সেরে ওঠার সময় সাঁতার এড়িয়ে চলুন। 
–পোশাক নির্বাচনে সাবধানী হোন। এমন কাপড় পরবেন না যা ট্যাটুতে আটকে যায় বা আপনার অস্বস্তি লাগে। 
যদি সময়মতো ট্যাট্টু না সারে এবং আপনি যদি বুঝতে পারেন যে সংক্রমণ হয়েছে জলদি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
এত কিছুর পরও এই শিল্প তরুণদের মাঝে টিকে থাকুক; এটি কে না চায়! 

আরও পড়ুন

×