প্রেরণা
সম্মান পেতে অন্যের সৃজনশীলতায় গুরুত্ব দিন
অ্যালিসিয়া কারা ছবি : সংগ্রহ
আব্দুর রাজ্জাক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
অ্যালিসিয়া কারা। কানাডিয়ান কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার। কুড়ি বছর বয়সেই কণ্ঠের জাদুতে সাড়া ফেলে দেওয়া তরুণ এই কণ্ঠশিল্পীর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনছেনে আব্দুর রাজ্জাক
বেশ কয়েক বছর আগে, ইউটিউবে বিভিন্ন গান কাভার করার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু আমার। মিউজিককে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছি কখন এই নিয়ে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে। আমি এসব থোড়াই কেয়ার করি! তবে যত বয়স হচ্ছে ততই বুঝতে পারছি, মানুষকে সম্মান করাও জীবনের ভালো একটা দিক। সে যাক, যখন বুঝতে পারলাম, মিউজিককে পেশাদারিভাবে নেওয়া সম্ভব, তখন থেকেই আমি একটু সিরিয়াস হতে থাকি। এর আগে গান আমার কাছে ছিল শখের বিষয়। ক্যারিয়ারের কথা ভুলেও ভাবিনি তখন। ফলে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে, শখের বশে গান গাইতে গাইতে এই উপলব্ধিতে এসে পৌঁছুতে খানিকটা সময় লেগে গিয়েছিল। এক সময় বেশ স্বাভাবিক মনে হলো সবকিছু। মনে হলো, ক্যারিয়ার হিসেবে গানকে ভাবা যেতেই পারে। তবে যেহেতু জনসমক্ষে গান গাওয়ার ব্যাপারে আমার মনে একটা ভয় বা জড়তা কাজ করত, ফলে সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে শুরুতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে আমাকে। তারপর যখন কাটাতে পারলাম, মনে হলো, আমি পারব!
জড়তা কাটাতে যার সাহায্য
ইউটিউব এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। কেননা, এ মাধ্যমে জনসমক্ষে সরাসরি হাজির না হয়েও নিজের কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগটি লুফে নিয়েছিলাম। ফলে ফিডব্যাক পাবার একটি ভালো মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে এটি। ধীরে ধীরে শ্রোতার সামনে সরাসরি হাজির না হয়েও, আমার গানের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়ার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
বন্ধু ও পরিবার-পরিজনের প্রতিক্রিয়া
আমি যেহেতু একটি সাধারণ পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছি, ফলে তারা শুরুতে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন। আমার পরিবারের কেউই কখনও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে আমি যাত্রা শুরু করার পর আমার ছোটভাইও এ পথে পা বাড়ানোর উদ্দীপনা পেয়েছে। এখন তো পরিবারের অনেকেই আমাকে নিয়ে গর্ব করে। আমি জানি, আমার মতো পৃথিবীর অনেক দেশের তরুণ-তরুণীরা এখনও পরিবারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কিছু করতে এখনও বাধা পায়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এসব কিছুকে কিছুটা সাপোর্টও করতে শিখছি। কেননা, অল্প বয়সে আমাদের অনেক সিদ্ধান্তই থাকে একরোখা। তখন আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না মুদ্রার উল্টো পিঠের কথা!
পুরো পৃথিবীটাই উন্মাদ
এত এত ঘটন-অঘটনের মধ্যে ‘হেয়ার’ সিঙ্গেলটি মুক্তি পাবার পর আপনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল এমন–আরে! সত্যিই নাকি?
সত্যিকার অর্থে আমার প্রতিক্রিয়া এ রকমই ছিল। তারও পরের কথা, টেইলর সুইফটের সঙ্গে পারফর্ম করার সময় আমার মনে হয়েছিল, যেন পুরো পৃথিবীটাই উন্মাদ হয়ে গেছে! মঞ্চের সামনে জড়ো হয়েছিলেন ৫৫ হাজার দর্শক; আমার গানের প্রতিটি কথা যেন তাদের সবাই মুখস্থ ছিল। ভাবা যায়! সুইফট যখন আমার উপস্থিতির কথা জেনে, আমাকে মঞ্চে ডেকে নিলেন নিজের সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য, সেই মুহূর্তের অনুভূতি আমি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারব না। তারপর যখন দেখলাম, সব দর্শকই আমার গানটি জানে, সে এক পাগলাটে অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম!
প্রকৃতিতে অবদান
‘হেয়ার’ দিয়ে বলতে পারেন বাজিমাতই করেছি আমি। এরপর ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া আমার আরেকটি সিঙ্গেল–‘স্কারস টু ইওর বিউটিফুল’ জায়গা করে নেয় বিখ্যাত ‘বিলবোর্ড হট ১০০’-এর টপ টেনে। এরপরের কাজ তো সবার সামনে আরও ওপেন। তবে আমি দিনে দিনে যেন পোক্ত হচ্ছি। এখন আমি সব কিছুকেই দেখি একটু ওপর থেকে। মানুষকে সম্মান দেওয়াটা একসময় আমার মধ্যে তেমন না থাকলেও বিষয়টি এখন আমি খুব সিরিয়াসলি দেখি। জীবন আসলে অনেক কিছুই শেখায় আমাদের। ঠেকিয়ে না হয় ঠকিয়ে; অথবা অর্জনের মধ্য দিয়ে। বড় অর্জন আমাদের নত হতে শেখায়। আমরা নত হতে পারলে অন্যকে সম্মান দিতে পারলে সৃজনশীলতা আমাদের আরও বেশি আঁকড়ে ধরতে পারবে; এই বিশ্বাস আছে আমার। তাই কাউকে এখন আর ছোট করে দেখি না। সব মানুষই প্রকৃতিতে রাখতে পারে বড় অবদান। সেই অবদান সময়ের ব্যাপার মাত্র!
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা
