ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রেরণা

পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই এগিয়ে চলুন

পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই এগিয়ে চলুন
×

নাজমুল গনি ছবি : সংগ্রহ

ইফতেখার আহমেদ

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৬:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে মাস্টার্স অব সায়েন্স প্রোগ্রামে পড়ছেন নাজমুল গনি। মূলত সেখানে তিনি ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স এবং বাস্তবভিত্তিক অ্যানালিটিক্স প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানে অন-ক্যাম্পাস স্টুডেন্ট কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ, পারফরম্যান্স ট্র্যাকিং এবং সমস্যার কার্যকর সমাধান—এই দায়িত্বগুলো তাঁর মানবিক ও বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতার সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের যারা ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স এবং বাস্তবভিত্তিক অ্যানালিটিক্স প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তাদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছেন এই তরুণ। চলুন, তাঁর কাছ থেকে জেনে নিই এগিয়ে যাওয়ার পাঠ।

যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে 
নাজমুল মার্কেটিংয়ে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করে ব্যবসা, বাজার বিশ্লেষণ এবং যোগাযোগ দক্ষতা তাঁকে পরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করে। নাজমুলের পেশাগত যাত্রা শুরু হয় মার্কেটিং ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট দিয়ে। রিয়েল এস্টেট খাতে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজের সময় তিনি বাজার বিশ্লেষণ, গ্রাহক যোগাযোগ এবং ব্র্যান্ড প্রচারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ তাঁকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। পরবর্তীকালে ডিজিটাল পণ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়ে মোবাইল অ্যাপ, গেম ও ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণে নেতৃত্ব দেন। 

করপোরেট ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা
ড্রিম-৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডে নাজমুলের দীর্ঘ সময়ের কাজ তাঁকে করপোরেট ব্যবস্থাপনার নানা স্তরে দক্ষ করে তোলে। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে ব্যবসা উন্নয়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন, পরে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে শতকোটি টাকার বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তাঁকে কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের জায়গায় শক্ত অবস্থান এনে দেয়। একই প্রতিষ্ঠানে বিজনেস অ্যানালিস্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজের সময় তিনি ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বড় টিম পরিচালনার দক্ষতা অর্জন করেন। সময়মতো, বাজেটের মধ্যে এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্প সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের হার প্রায় শতভাগ। 

ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে ডেটা ও অ্যানালিটিক্স
দীর্ঘ সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার পর নাজমুল উপলব্ধি করেন যে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেটা ও অ্যানালিটিক্সের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে অধ্যয়ন শুরে করেন। একই সঙ্গে ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স এবং বাস্তবভিত্তিক অ্যানালিটিক্স প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করেন।

গবেষণা ও উদ্ভাবন
শিক্ষা এবং  পেশাগত কাজের বাইরেও গবেষণা ও উদ্ভাবনে নাজমুলের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ণয়, আগাম সুনামি পূর্বাভাসের জন্য মেশিন লার্নিং মডেল, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীগত ভাষার ডিজিটাইজেশন ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং সিস্টেম–এমন প্রকল্পগুলো তাঁর প্রযুক্তি মনস্কতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা সংরক্ষণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তাঁকে দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে তুলে ধরে। নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে কীভাবে আইটি বিজনেস অ্যানালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা যায়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে লিখছেন বই। বইটি তরুণদের জন্য একটি ব্যবহারিক রোডম্যাপ তৈরি করবে; যাতে তারা বিভ্রান্তি ছাড়াই এই খাতে প্রবেশ করতে পারে। ক্যারিয়ারের লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং,  প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস অ্যানালাইসিস, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, লাইফ সাইকেল, অ্যাজাইল ও স্ক্রাম মেথডোলজি, ডেটা অ্যানালাইসিস, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বলেন। এসব প্রশিক্ষণ তরুণদের কেবল প্রযুক্তিগতভাবে নয়, বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও টিম লিডারশিপের ক্ষেত্রেও দক্ষ 
করে তোলে। 

আরও পড়ুন

×