প্রেরণা
নিজের কাজে নিজেই তৃপ্ত হলে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব
‘মাইকেল’ বায়োপিকে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করা জেফার জ্যাকসন - ছবি : অনলাইন
ফেরদৌস আলম
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাইকেল জ্যাকসন। ‘কিং অব পপ’খ্যাত আমেরিকান মিউজিক লেজেন্ডের জীবনের গল্প নিয়ে ২৪ এপ্রিল মুক্তি পায় বায়োপিক ‘মাইকেল’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিস কাঁপায় সিনেমাটি। বায়োপিক থেকে বাস্তবের এ কিংবদন্তির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনছেন ফেরদৌস আলম
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল কম নয়। তাই তো তাঁর জীবনের গল্প পর্দায় তুলে ধরেছেন হলিউড নির্মাতা অ্যান্টনি ফুকো। প্রয়াত এই পপতারকার জীবনের গল্প নিয়ে যখন ‘মাইকেল’ সিনেমার ঘোষণা হয়, তখন থেকেই সিনেমাটি যে সব রেকর্ড ভেঙে দেবে; হয়েছেও তাই। ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় ‘মাইকেল’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলে সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটির তথ্য এটি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড এখন ‘মাইকেল’-এর দখলে। এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ এই তালিকায় শীর্ষে ছিল, যার উদ্বোধনী আয় ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। সেই রেকর্ড অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে নতুন এই বায়োপিক। বায়োপিক থেকে চলুন বাস্তবের মাইকেল কথা থেকে জীবনের পাঠ নিই-
এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা
স্টেজে আমাকে যা যা করতে দেখেন, তার সবটাই আমার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। এর কোনোটাই পূর্বপরিকল্পিত নয়। এ কেবলই আমার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। আর আমার গায়কী পুরোটাই যথাসম্ভব সিম্বল; এ স্রেফ এক ঈশ্বরপ্রদত্ত ব্যাপার। যখন ছোট ছিলাম, একদমই জানতাম না কী করে যাচ্ছি। স্রেফ গান গেয়ে যেতাম। এর সঙ্গে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কোনো রকমই সম্পর্ক নেই। ফলে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ স্রেফ আপনাআপনিই হয়ে যাওয়া!
সে যাক, আমি প্রায়ই ময়ূর নিয়ে কথা বলি। এর কারণও আছে। কারণ আমি মনে করি, পাখি সম্প্রদায়ের মধ্যে ময়ূরই একমাত্র পাখি, যে কি-না নিজের শরীরে জগতের সব রং ধারণ করে আছে। মিউজিকে এটিই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য। আমাদের কনসার্টে তাকালেই দেখবেন, সব দর্শক একসঙ্গে গেয়ে উঠছে, নেচে উঠছে; আর তাতে ছড়িয়ে পড়ছে জগতের সব রং। এটিই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
কাজই শ্রেষ্ঠ উপহার
পারফেকশন বা নিখুঁত অবস্থার প্রতি গভীর অনুরাগ আছে আমার। ফলে কখনোই পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি জন্মায় না মনে। একেকটা গান তৈরির পর মনে হয়, নাহ, ঠিকমতো হলো না কাজটা! তারপর বারবার পরিবর্তন-পরিমার্জন শেষে, একটা পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সর্বশেষ ভার্সনটিকে মেনে নিই। আমি মনে করি, নিজের কাজে নিজেই যদি তৃপ্ত হই, তাহলে আমার পক্ষে এক পাও এগোনো সম্ভব নয়। পৃথিবীতে অনেক মানুষই যোগ্যতার চেয়েও বেশি পেয়েছে। প্রার্থনা করি, আমার ক্ষেত্রে যেন এমনটি না হয়। একসঙ্গে অনেক জায়গায় অনেক কাজ করার স্বপ্ন দেখি না আমি; বরং যে কাজটিই করি না কেন, সেটি যেন নিখুঁত ও গভীর অর্থবহ হয়–সে দিকেই নজর আমার। আমি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস ও অনুভব করি, জনসাধারণের সামনে হাজির হয়ে পারফর্ম করার পেছনে যেন একটা যৌক্তিক কারণ থাকে; আর সে কাজটি যদি যথাযথভাবে করতে পারি, তাহলে সেটিই আমার পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।
সঙ্গ এবং বইয়ের পাতা...
অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গ আমার ভালো লাগে। ভালো লাগে সহজাত প্রতিভার অধিকারী মানুষদের। আরও ভালো লাগে, কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজেদের পৌঁছে দেয় নিজ ক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানে। মানুষের সঙ্গে মেশা, তাদের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় আর একসঙ্গে কাজ করা–এ আমার কাছে জাদুকরি ব্যাপার বলে মনে হয়। আমার প্রেরণার আরেকটি বড় নাম–চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। শিশুদের কাছ থেকেও বড় ধরনের প্রেরণা পাই আমি। যখন মন ভেঙে যায়, ছোটদের ছবি ভরা কোনো বই হাতে তুলে নিই; আর মুহূর্তেই মনটা ভরে যায় আমার। শিশুদের সান্নিধ্যে থাকার মধ্যে একটা জাদুকরি ব্যাপার আছে, বোধ করি।
উড়তে চাওয়া মন ও বাস্তবতা
রিয়েলিজম বা বাস্তববাদের অনুরক্ত আমি। বানোয়াট জিনিস আমার ভালো লাগে না। অন্তরের অন্তস্থলে ডুব দিতে জানলে দেখবেন, পৃথিবীর সব মানুষই এক। আমাদের সবারই রয়েছে আবেগ; আর এর ফলে ‘ই. টি.’র মতো সিনেমা আমাদের সবারই মন ছুঁয়ে যায়। বলুন তো, পিটার প্যানের মতো উড়তে চায় না কে? মহাবিশ্বের বাইরে থেকে আসা কোনো জাদুকরি সৃষ্টি বা এলিয়েনের সঙ্গে উড়তে চায় না, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায় না– এমন মানুষ ক’টা আছে? এই মানুষদেরই আবার নিজেদের গড়তে হয়। এগিয়ে যেতে হয় জীবনের পথে!
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা
