ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

উপকূলের শিশুদের জন্য উদ্যোগ

উপকূলের শিশুদের জন্য উদ্যোগ
×
×

উপকূলের নারীদের সচেতনায় ইয়ুথ ফর কোস্টাল রেজিলিয়েন্স । ছবি: সংগ্রহ

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার সুন্দরবন উপকূলের কয়রায় বেড়ে ওঠা ইমরান হোসেনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে সিডর, আইলা, আম্পানসহ একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদে দুর্যোগ যেন মানুষের জীবনেরই অংশ। 

প্রান্তিক জনপদ থেকে...
কয়রার কৃষক পরিবারে জন্ম ইমরানের। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর সীমিত সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা। গ্রামের স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে দেখতে শুরু করেন। এই ভাবনা থেকে ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে প্লাবিত কাটমারচর গ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইয়ুথ ফর কোস্টাল রেজিলিয়েন্স’। তরুণদের সংগঠিত করে জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করেন ইমরান ও তাঁর সহযোদ্ধারা।

হাজতখালী শিশুনিকেতন স্কুল
কয়রার হাজতখালী এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পোলট্রির ঘরে পড়াশোনা করা শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘হাজতখালী শিশুনিকেতন স্কুল’। প্রতিবছর সেখানে ৫০ জনের বেশি উপকূলীয় শিশু পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। 

মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা
জেলে ও কৃষিনির্ভর পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও চালানো হচ্ছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। নারীর স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করেছে তাদের ‘সুরক্ষা’ উদ্যোগ।  

গ্রিন কোস্ট মুভমেন্ট 
উপকূলে ‘গ্রিন কোস্ট মুভমেন্ট’ নিয়েও কাজ করছেন ইমরান। লক্ষ্য–২০৫০ সালের মধ্যে একটি সবুজ, সক্ষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপকূল গড়ে তোলা। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, নারীর নেতৃত্ব, তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলো রয়েছে এই উদ্যোগের আওতায়। 

মুণ্ডা নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে...
সুন্দরবননির্ভর মুণ্ডা নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবিকার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে ‘বনলতা’ প্রকল্প। নানা সময়ে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ এবং সম্ভাবনাময় কিশোরীদের উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান ও তাঁর সহযোদ্ধারা। তবে এই পথ খুব সহজ ছিল না। একদিকে অর্থের সংকট, অন্যদিকে ঢাকা থেকে উপকূলে কাজ সমন্বয় করা–সবকিছুর সঙ্গে লড়তে হয়েছে। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বাধার মুখেও পড়েছেন। তবু হাল ছেড়ে দেননি। নিজের কাজ সম্পর্কে ইমরান হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই শুধু বাঁধ নির্মাণ কিংবা দুর্যোগের পর ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি উপকূলকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করতে হলে মানুষের সক্ষমতা, মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হয়। এসব নিয়েই আমরা কাজ করছি।’ 

আরও পড়ুন

×