প্রেরণা
যা ভালো লাগে তাই করুন
বিয়ার গ্রিলস ছবি : সংগ্রহ
আরমান খান
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিয়ার গ্রিলস। দুঃসাহসী ব্রিটিশ অভিযাত্রী। টিভি সিরিজ ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’-এর জন্য বিখ্যাত। বিশ্বজুড়ে তরুণদের কাছে ভয়কে জয় করা এই অভিযাত্রীর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন আরমান খান
কিশোর বয়সে নিজেকে নিজে বলেছি, এমনভাবে এগিয়ে চলো, যেন তোমার বাবা স্বয়ং রয়েছেন তোমারই পাশে। বলে রাখি, আমার বয়স বিশে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা গিয়েছেন। অসাধারণ এক বাবা ছিলেন তিনি। দুর্দান্ত মিশুক ও ফূর্তিবাজ। তিনি অল্প বয়সে ক্লাইম্বিং করতে শিখিয়েছেন। অভিযানে বেরিয়ে পড়ার ব্যাপারে নিরন্তর প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনিই বলেছেন, কখনও কিছুতে ভড়কে যেও না।
পর্বতারোহণ ও মার্শাল আর্টে ঝোঁক
১৬ বছর বয়সে যখন আমি ইংল্যান্ডের এটন কলেজের ছাত্র, তখন আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের বোধ জেগে ওঠে মনে। কলেজের পড়াশোনা ভালো লাগত না। বিশেষ করে, বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হতো বলে। সে বয়সে পর্বতারোহণ ও মার্শাল আর্টের প্রতি ঝুঁকে পড়ি আমি। মনে পড়ে, কারাতে খেলার দিনগুলোর শুরুতে এমন একদল বন্ধু পাশে পেয়েছিলাম; যারা প্রত্যেকেই শক্তি ও সামর্থ্যে আমার চেয়ে এগিয়ে। দিন দিন তারা সবাই সরে গেলেও আমি রয়ে গেলাম এ পথে। ট্রেনিং, ডিসিপ্লিন–এসব ভালো লাগত আমার। ক্লাইম্বিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।
অলৌকিকতার মুখোমুখি...
স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস আমার ভেতরে জাগতিক ভয়-ডরকে কমিয়ে দিয়েছে। লোকজন বলে, আমি নাকি কোনোকিছুই ভয় করি না। আসলে ভয় আমি অনেক জিনিসকে পাই। মিলিটারি প্রশিক্ষণের সময় যখন আমি স্কাই-ড্রাইভিংয়ের দুর্ঘটনায় পড়লাম চিকিৎসক তখন ধরে নিয়েছিলেন, আমি সারা জীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাব, তারপর থেকে এখনও প্যারাস্যুট দেখলে আমার ভয় লাগে! কিন্তু এই মহাজগতে আমি একাই লড়ছি না–এই বোধটি আমাকে সাহস জোগায়। নিজের ওপর রাখা আস্থা আমাকে ঘরের বাইরে, উন্মুক্ত পরিবেশে টেনে নিয়ে যায়। ফলে পাহাড়-পর্বত কিংবা জঙ্গল; যেখানেই যাই, কোনো না কোনো অলৌকিকতার মুখোমুখি হয়ে পড়ি। প্রতিটি অভিযাত্রা শেষে রয়েছে বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা, ফলে মৃত্যুর ভয় কমে আসে।
আত্মবিশ্বাসে ভর
স্কুলের পাঠ শেষে আর্মিতে যখন যোগ দিই, তখন আমার বাকি বন্ধুরা সবাই অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও আমি বরং দিয়েছিলাম একজন প্রাইভেট হিসেবে। কেননা নিজের মতো করে একটা পথ খুঁজে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল আমার। নিজের কিশোর বয়সে যখন ফিরে তাকাই, দেখি এক লাজুক বিয়ার গ্রিলসকে, যে কিনা আত্মপরিচয় খুঁজে পেতে মরিয়া। ট্রেন্ডি পোশাক পরতে আর চুলে স্পাইক করতে ভালো লাগত তখন। যদি পারতাম, সেই কিশোরটাকে বলতাম, শোনো, এত পরিপাটি থাকার কোনো মানে নেই। তোমাকে মানায় না এসব। কোনো কিছু ভালো না লাগলে মন খারাপ করার কিছু নেই; বরং যা করতে ভালো লাগে করো। ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার সুযোগ না পেলে মন খারাপ করো না। কেননা স্কুল তো জীবনের খুবই ছোট্ট একটা অংশ। বাবা বলতেন, স্কুলে সেরা হওয়ার চেষ্টা করো না; নয়তো তোমার জীবন দুঃসহ হয়ে উঠবে!
যে স্বপ্ন তাড়িয়ে বেড়াত
কিশোর বয়সে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার স্বপ্নটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত। প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও থেমে যাইনি। এভারেস্ট আমার জীবনকে নানা দিক থেকে বদলে দিয়েছে। এভারেস্টে চড়ার প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ অবিশ্বাস্য দুঃসাহস, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তার ভেতর দিয়ে যেতে হয় একেকজন অভিযাত্রীকে। এখনও প্রতি রাতে ছবিতে দেখা সন্তানদের ‘শুভরাত্রি’ বলে ঘুমোতে যাই। সময় পেলে বই পড়ি। জীবনী গ্রন্থগুলো আমাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। আপনিও পড়তে পারেন এমন বই!
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা