রঙে-রূপে বৈশাখের ডাক
লোকজ ঐতিহ্যের রঙিন আয়োজন শিল্পকলায়
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৮
চৈত্রের বিদায় আর বৈশাখের আগমনে বাঙালির হৃদয়ে এখন উৎসবের আমেজ। চৈত্রসংক্রান্তি ১৪৩২ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এবার রাজধানী মেতে উঠছে এক মিলনমেলায়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে পাঁচ দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য উৎসবের। ঢাকঢোলের গর্জন, লাঠিখেলা আর যাত্রাপালার সুরে মুখর শিল্পকলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে এক টুকরো চিরচেনা গ্রামবাংলায়।
আজ সোমবার চৈত্রসংক্রান্তির বিকেলে ৩টায় শিল্পকলার উন্মুক্ত মঞ্চে পর্দা উঠছে এই উৎসবের। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এই লোকজ যজ্ঞের সূচনা করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
উৎসবের প্রথম দিনেই থাকছে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অর্কেস্ট্রায় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’-এর সুর মূর্ছনা। শুধু গান নয়, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা সন্ধ্যার আকাশকে করে তুলবে মায়াবী। রাতের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শিল্পকলা একাডেমির রেপার্টরি যাত্রাদলের পরিবেশনায় কালজয়ী যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’।
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ। ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। বিকেল ৪টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে। এই দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। কবিগান, গাজীর গান আর গম্ভীরার তালে উৎসবের মেজাজ ছড়িয়ে পড়বে প্রাঙ্গণজুড়ে।
উৎসবের তৃতীয় দিনে জাসাসের শিল্পীদের বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান পরিচালনা করবেন ইথুন বাবু। সঙ্গে থাকবে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের শ্বাসরুদ্ধকর প্রদর্শনী। চতুর্থ দিনে ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’ শিরোনামে পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এদিন সন্ধ্যায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে পুতুলনাট্য ‘বাছেরের বিয়ে’।
আগামী শুক্রবার সমাপনী দিনে উৎসবের আবেশ শেষ হবে বর্ণিল কোরিওগ্রাফি আর ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে। এদিন বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে থাকছে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ঢালিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।
উৎসবের এই পাঁচ দিনই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্য। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে বৈশাখী মেলা। যেখানে নকশিকাঁথা, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের হস্তশিল্প আর গ্রামীণ খাবারের পসরা সাজিয়ে বসবেন কারুশিল্পীরা। প্রতিদিন ঢাকঢোল, লাঠিখেলা আর লাটিম খেলার প্রদর্শনী উৎসবকে এনে দেবে এক চিরন্তন লোকজ আবহ।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া এই উৎসব কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া লোকসাহিত্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক সেতু। তাই যান্ত্রিক নগরের ক্লান্তি ভুলে শেকড়ের টানে মেতে উঠতে প্রস্তুত এখন শিল্পকলা প্রাঙ্গণ।
- বিষয় :
- বৈশাখী উৎসব
