সম্মিলিত অনুশীলনে নজরুলের তাল, লয় ও ছন্দের নতুন পাঠ
নজরুলের ছন্দতরঙ্গে ২০০
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১২ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
একসঙ্গে ২০০ তালবাদ্যশিল্পী। সামনে কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার। কারও হাতে তবলা, কারও হাতে অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র। আলাদা আলাদা শিল্পী হলেও অনুশীলনের মুহূর্তে তাদের মনোযোগ এক জায়গায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির ভেতরে থাকা তাল, লয় ও ছন্দকে নতুন করে অনুভব করা।
শুধু নজরুলের গান বা কবিতা পরিবেশন নয়, তাঁর সৃষ্টির ছন্দের কাঠামোকে আলাদা করে অনুধাবনের এই প্রয়াসের নাম ‘নজরুলের ছন্দতরঙ্গ’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দুদিনের এই বিশেষ অ্যাপ্রিসিয়েশন কার্যক্রমে অংশ নেন ২০০ তালবাদ্যশিল্পী। গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের ১০৪ ও ১০৫ নম্বর মহড়া কক্ষে চলে এ সম্মিলিত অনুশীলন।
দুদিনই চলেছে তাল ও ছন্দের চর্চা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা, আবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের আলোচনায় তাঁর বিদ্রোহ, মানবতা, প্রেম কিংবা সাম্যের কথা সামনে আসে বেশি। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো ছন্দ। কবিতায় যেমন ছন্দের বৈচিত্র্য, তেমনি গানে তাল ও লয়ের ব্যবহারেও ছিল স্বাতন্ত্র্য। সেই ছন্দের ভুবনকে কেন্দ্র করেই এবারের আয়োজন।
দুদিনের অনুশীলন শেষে গতকাল বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের মহড়া কক্ষেই ছিল আয়োজনের শেষ পর্ব। অংশগ্রহণকারী ২০০ শিল্পীর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ স্টালিন। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত তাল, লয় ও ছন্দ সংগীত ও শিল্পভুবনের এক অনন্য সম্পদ। ‘নজরুলের ছন্দতরঙ্গ’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০০ তালবাদ্যশিল্পীর সম্মিলিত অনুশীলনে নজরুলের ছন্দসৌন্দর্য নতুন মাত্রায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
তাঁর মতে, এ ধরনের শিল্পচর্চা অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও পরিবেশনাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নজরুলের সৃষ্টির গভীরতর শিল্পরস অনুধাবনে সহায়ক হবে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে জাতীয় কবির সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক সৌন্দর্য নানা আঙ্গিকে ছড়িয়ে দিতে নজরুল বর্ষজুড়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। দুদিনের আয়োজন শেষ হয়েছে, সনদও পেয়েছেন শিল্পীরা। কিন্তু তাল, লয় ও ছন্দের যে অনুশীলন তারা সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন, সেটিই হয়তো ‘নজরুলের ছন্দতরঙ্গ’-এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ, নজরুলকে নতুন করে আবিষ্কারের পথ কেবল তাঁর লেখা পড়া বা গান গাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর সৃষ্টির ছন্দের ভেতর দিয়েও সেই আবিষ্কারের পথ সৃষ্টি হতে পারে।
- বিষয় :
- নজরুল উৎসব