ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

একঘেয়েমিকাটাতে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি

একঘেয়েমিকাটাতে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি
×

প্রতিদিনের একই রুটিন থেকে কিছুটা বিরতি নিতে মাঝেমধ্যে দুজনে বের হয়ে পড়ুন মডেল: পারভেজ ও ইমি; ছবি: কাব্য

রোজী আরেফিন 

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দাম্পত্য জীবনে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে নানা দায়িত্ব। কাজের ব্যস্ততা, সংসার সামলানো, সন্তানদের দেখাশোনা–সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের জন্য আলাদা করে সময় বের করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ একটি সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন শুধু পাশাপাশি থাকা নয়, একে অপরের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সময় কাটানো। সে কারণে মাঝেমধ্যে দুজন মিলে কোথাও ঘুরে আসা হতে পারে সম্পর্ককে নতুন করে সময় দেওয়ার একটি সহজ উপায়। 

সঙ্গীকে নতুন করে চেনা যায় 
দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষকে আমরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে দেখি। কিন্তু ভ্রমণের সময় পরিচিত গণ্ডির বাইরে যেতে হয়। দীর্ঘ যাত্রা, ক্লান্তি, অপরিচিত জায়গা, যানজট, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তন, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় দুজনকেই। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভ্রমণ দম্পতিদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে তাদের যোগাযোগের ধরন, আবেগের বহিঃপ্রকাশ এবং টিম মেম্বার হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা প্রকাশ পায়। ফলে সঙ্গীর অভ্যাস, পছন্দ ও ব্যক্তিত্বকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। 

ভিন্ন পছন্দেও সমঝোতা শেখায়
স্বামী-স্ত্রীর সব পছন্দ এক হবে, এমনটা নয়। বরং দুজনের ব্যক্তিত্ব ও অভ্যাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। ভ্রমণের সময় সেই পার্থক্যগুলো সামনে আসে এবং একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। দেখুন, সম্পর্কের সামঞ্জস্য মানে সব বিষয়ে একই রকম হওয়া নয়। বরং ভিন্নতার মধ্যেও একে অপরকে জায়গা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ভ্রমণ স্বামী-স্ত্রীকে তাদের একে অপরের ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ বা স্বভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও শেখায়। 

বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে থাকার সুযোগ 
ভ্রমণের সময় সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী নাও চলতে পারে। ফ্লাইট দেরি করা, হোটেল প্রত্যাশামতো না হওয়া কিংবা আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা পুরো পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে। তখন পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী না করে কীভাবে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, সেটিও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঙ্গী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং অন্যজনকে কতটা সহযোগিতা করেন, তা বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়। 

ছোট ভালো আচরণগুলো সামনে আসে 
ভ্রমণের সময় সঙ্গীর কিছু ছোট আচরণও নতুন করে চোখে পড়ে। অপরিচিত জায়গায় পথ হারালে তিনি কী করেন, অন্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, কোনো পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে কীভাবে পরিস্থিতি সামলান কিংবা সঙ্গী ক্লান্ত হলে তাঁর প্রয়োজন বুঝতে পারেন কিনা ইত্যাদি। দৈনন্দিন জীবনে এসব আচরণের অনেক কিছুই হয়তো চোখে পড়ে না। ভ্রমণে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার কারণে ছোট বিষয়গুলোও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে নিজেদের সম্পর্কের ভালো দিকগুলো যেমন বোঝা যায়, তেমনি কোথায় আরও সমঝোতা প্রয়োজন, সেটিও উপলব্ধি করা সম্ভব হয়। 

দুজনের জন্য তৈরি হয় একান্ত কিছু স্মৃতি 
দাম্পত্য জীবনে কিছু স্মৃতি শুধু দুজনের। নতুন কোনো জায়গায় প্রথম একসঙ্গে যাওয়া, অপরিচিত খাবার চেখে দেখা, হঠাৎ বৃষ্টিতে আটকে পড়া কিংবা কোনো ছোট ঘটনার জন্য দুজনের একসঙ্গে হেসে ওঠা–এসব মুহূর্ত পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের আনন্দের অংশ হয়ে থাকে। তবে সব ভ্রমণ যে নির্ঝঞ্ঝাট হবে, এমন নয়। কখনও কঠিন পরিস্থিতিও আসতে পারে। এই কঠিন পরিস্থিতি একসঙ্গে মোকাবিলা করার সেই অভিজ্ঞতা স্বামী-স্ত্রী দুজনের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে। 
ব্যস্ততার বাইরে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ আসে 
ভ্রমণের জন্য সবসময় দূরের কোনো দেশ কিংবা বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। কাছাকাছি কোনো জায়গায় এক দিনের জন্য ঘুরে আসা, শহরের বাইরে রাত কাটানো কিংবা দুজনের পছন্দের কোনো জায়গায় সময় কাটানোও হতে পারে কার্যকর। মূল বিষয় হলো, সেই সময়টুকুতে দুজন যেন দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে একে অপরের সঙ্গে মন দিয়ে সময় কাটাতে পারেন। ভ্রমণের সময় অফিসের কাজ, সংসারের দায়িত্ব কিংবা প্রতিদিনের একই রুটিন থেকে কিছুটা বিরতি নেওয়া যায়। এই বিরতিতে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের নিয়ে কথা বলতে পারেন, একসঙ্গে নতুন কিছু উপভোগ করতে পারেন এবং সম্পর্কের বাইরে থাকা নানা ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য নিজেদের আলাদা রাখতে পারেন। 
দাম্পত্য সম্পর্ককে ভালো রাখার কোনো একক সূত্র নেই। তবে একসঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া, একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ বোঝা এবং মতের অমিলের মধ্যেও সমঝোতা করার সুযোগ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় শুধু কোথায় যাবেন সেটি নয়–কীভাবে দুজন মিলে সময়টি উপভোগ করবেন, সেটি মুখ্য। খুব দূরের কোনো গন্তব্য কিংবা বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দুজনের জন্য কিছুটা সময়, একসঙ্গে নতুন কিছু দেখা এবং দৈনন্দিন জীবনের বাইরে কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া হতে পারে আপনাদের সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 
সূত্র: ফেমিনা


 

আরও পড়ুন

×