ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

জনপ্রিয় হচ্ছে বাসায় বেকিং

জনপ্রিয় হচ্ছে বাসায় বেকিং
×

নিরাপদ খাবারের জন্য বাসায় বেকিং করছেন অনেকে মডেল: প্রিয়ন্তী; ছবি: আফরোজা খানম

আজহার মাহমুদ 

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

একসময় কেক, পেস্ট্রি, কুকিজ কিংবা পাউরুটি মানেই ছিল বেকারি বা দোকানের ওপর নির্ভরতা। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, জন্মদিন কিংবা অতিথি আপ্যায়নের জন্য দোকান থেকে কিনে আনা হতো পছন্দের বেকারি পণ্য। এখন সময় বদলেছে। অনেকের রান্নাঘরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের কেক, কুকিজ, ব্রেড, পিৎজা, পেস্ট্রি থেকে শুরু করে বাহারি ডেজার্ট। শুধু শখের বশে নয়, কেউ কেউ বাসায় বেকিংকে পরিণত করছেন নিয়মিত আয়ের উৎসে।
কুকিজ, ব্রাউনি, কাপকেক, পেস্ট্রি, ডোনাট, বান, পিৎজা, পাউরুটি, বিভিন্ন ধরনের ডেজার্টসহ অনেক কিছু তৈরি করছেন বাসায়। দেশীয় স্বাদের সঙ্গে বেকিংয়ের সমন্বয়ও করছেন কেউ কেউ। যেমন বিভিন্ন ফল, বাদাম, খেজুর কিংবা স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে নতুন স্বাদের কেক ও ডেজার্ট। বেশ কয়েক বছর ধরে বাসায় বেকারি পণ্য তৈরি করছেন মোহাম্মদপুরের কানিজ ফাতেমা। তিনি মনে করেন, বাইরের খাবারে ব্যবহৃত সস, মেয়নেজ, রুটির ডো, পিৎজা ইত্যাদি কোন পরিবেশে তৈরি হয়েছে তা ক্রেতা জানেন না। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্কদের জন্য সেসব খাবার খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরাপদ খাবারের জন্য বাসায় বেকিং করছেন অনেকে। 

তরুণ-তরুণী ও নারীর মধ্যে বাসায় বেকিংয়ের আগ্রহ বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ঘরে তৈরি কেক বা বেকারি পণ্যের ছবি দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন। ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে শুরু হওয়া শখ কখনও কখনও হয়ে উঠছে ছোট ব্যবসার ভিত্তি। এখন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক হোম বেকার রয়েছেন, যারা নিজেদের বাসার রান্নাঘরে অর্ডার নিয়ে কেক ও অন্যান্য বেকারি পণ্য তৈরি করছেন। 

রাজধানীর মিরপুরের জেসমিন আক্তার ঘরে বেকারি পণ্য ও কেক বানাতেন। দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একসময় কেকের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে চাকরি ছাড়ার পর বেকিংয়ের ওপর ট্রেনিং করি। ২০২০ সালের শেষের দিকে বাসায় কেক তৈরি করা শুরু করলাম। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের ছোট ছোট অর্ডার নেওয়া শুরু করেছিলাম।’ এখন বড় পরিসরে জেসমিনের কেকের ব্যবসা চলছে। ফেসবুকে ‘জেসমিন বেকিং অ্যান্ড কুকিং’ নামে একটি পেজ রয়েছে তাঁর।
জেসমিনের মতে, বেকিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এটি তুলনামূলক সহজে শুরু করা যায়। বড় পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে যেখানে দোকান ভাড়া, কর্মচারী, সাজসজ্জা ও নানা ধরনের খরচের প্রয়োজন হয়, সেখানে হোম বেকিং শুরু করতে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে সরঞ্জাম বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
হোম বেকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার আরেকটি কারণ–ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী খাবার তৈরির সুযোগ। এমনটাই মনে করেন হোম মেইড চকো ল্যাবের উদ্যোক্তা শাহনাজ আক্তার। অনেক ক্রেতা চান কম মিষ্টি, নির্দিষ্ট ফ্লেভার, পছন্দের ডিজাইন কিংবা নির্দিষ্ট উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার। দোকানে সবসময় সে সুযোগ পাওয়া যায় না। হোম বেকারের কাছে নিজের প্রয়োজন বা পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দেওয়া যায়। উপকরণের মান, পরিচ্ছন্নতা, সংরক্ষণ এবং নিরাপদভাবে খাবার প্রস্তুতের বিষয়গুলো নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকা যায়। 

আরও পড়ুন

×