ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্লাটিলেট বাড়াতে খাবার

প্লাটিলেট বাড়াতে খাবার
×
×

ইসরাত জাহান প্রিয়ানা 

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বেশিরভাগ ঘরে ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলছে। এ পর্যন্ত অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নতুন করে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন–কী খেলে প্লাটিলেট দ্রুত বাড়বে? ডেঙ্গুতে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। শুধু কোনো একটি খাবার খেলে দ্রুত প্লাটিলেট বেড়ে যাবে–এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। 
তাই রোগীর প্লাটিলেট কমলে শুধু নির্দিষ্ট কোনো ফল, জুস বা পাতার রসের ওপর নির্ভর করা যাবে না। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং সুষম আহার পরিকল্পনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে জ্বর, বমি ও বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য বা দুর্বলতার কারণে অনেক রোগী পর্যাপ্ত খাবার ও পানি গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে খুব দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার পানি, ওরস্যালাইন, স্যুপ, জাউ, ডাবের পানিসহ উপযুক্ত তরল গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নরম ভাত, পাতলা খিচুড়ি, আলু বা অন্যান্য সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডিম, পাতলা ডাল, মাছ, বাচ্চা মুরগি বা সহনীয় অন্যান্য প্রোটিনজাত খাবার রাখা যেতে পারে। রোগীর রুচি ও সহনশীলতা অনুযায়ী অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিতে হবে। অর্থাৎ একবারে বেশি না খাইয়ে পর্যায়ক্রমে বারবার খাবার খাওয়াতে হবে। 
পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, আমড়া, আমলকী, লেবু ও অন্যান্য টক ফল ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। একইভাবে বিভিন্ন ধরনের সহজপাচ্য সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এসব খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সহায়তা করে। অসুস্থতা সারিয়ে তুলতে এবং শরীরে শক্তি ফেরাতে এ ধরনের খাবার কার্যকর। সবজি ভাপ দিয়ে মুরগি ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে স্যুপ রান্না করে ডেঙ্গু রোগীকে বারবার খাওয়াতে হবে। এটি ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখে, ডিহাইড্রেশন রোধ করে। এ স্যুপ ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
পেঁপে পাতার রস খেলে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট বাড়ে, এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে। পেঁপে পাতার নির্যাস বা রস নিয়ে কিছু গবেষণায় প্লাটিলেটের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলা হয়। তবে ডেঙ্গুর প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেঙ্গুতে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখেই রোগীর ঝুঁকি ও রোগের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর রক্তপাত হচ্ছে কিনা, রক্তের অন্যান্য পরীক্ষার মান, হেমাটোক্রিট, রক্তচাপ, ২৪ ঘণ্টায় প্রস্রাবের পরিমাণ, পানি গ্রহণ ও বের হওয়ার পরিমাণ, মলের অবস্থা এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকরা বিবেচনা করে থাকেন। তাই শুধু প্লাটিলেটের পরিমাণ বিবেচনায় না রেখে সুষম তরল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের মাত্রা এবং অন্যান্য রিপোর্ট বিবেচনা করে ব্যক্তিভেদে পুষ্টি পরামর্শ গ্রহণে উন্নতি সম্ভব। 

লেখক: পুষ্টিবিদ, সেন্ট্রাল হসপিটাল 
এবং এভার ড্রিম ফার্টিলিটি কেয়ার 

আরও পড়ুন

×