ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈষম্যহীন ও নিরাপদ আগামীর প্রত্যাশা

বৈষম্যহীন ও নিরাপদ আগামীর প্রত্যাশা
×

ছবি :: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৩ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর পট পরিবর্তনের পর দেশে দায়িত্ব নিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। নতুন এই নেতৃত্বের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। এই পরিবর্তনের অন্যতম রূপকার দেশের তরুণ নারীরা। তাদের প্রত্যাশা কেবল গতানুগতিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা চাইছে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রকাঠামো, নারী-পুরুষের সমতা এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ।

নারী অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্র যেন বারবার হোঁচট খায়। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নারীকে কেবল ভোটের হিসাব বা সংখ্যার বিচারে মূল্যায়ন করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহনাজ আক্তার নাদিয়ার মতে, বর্তমানে নারীরা ক্রমবর্ধমান হারে সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। নতুন সরকারের কাছে তরুণদের অন্যতম দাবি–অনলাইন বা অফলাইনে নারীকে হেনস্তা করা যেন কোনোভাবেই ‘মজা’ বা ‘স্বাভাবিক’ বিষয় হিসেবে পার না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য শুধু আইন থাকলেই চলবে না, প্রয়োজন কঠোর ডিজিটাল মনিটরিং এবং আইনের প্রয়োগ।

গণপরিবহন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র–সর্বত্র নারীর নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করাই প্রকৃত স্বাধীনতার মাপকাঠি। তরুণরা বিশ্বাস করেন, একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো সংকীর্ণ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা। মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত মানুষের প্রধান পরিচয়, লিঙ্গ পরিচয় নয়।

ডায়নামিক নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী নাসরিন সেতু যেমনটা উল্লেখ করেছেন, শুধু নারী নয়, সব স্তরের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে জরুরি। পিটিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যানজট নিরসনে সরকারের আশু ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে তরুণ সমাজ। যানজটের কারণে রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা আর দেখতে চায় না তারা। সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মানোন্নয়ন ও হয়রানিমুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম দাবি।

তরুণদের এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশাকে বিশেষজ্ঞরা খুব স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক বলেই মনে করছেন। উচ্চ আদালতের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূমের মতে, তরুণরা আজ যা প্রত্যাশা হিসেবে তুলে ধরছে, সেগুলো আসলে যে কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আমাদের সমাজে যেগুলো মৌলিক অধিকার হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো আজ ‘প্রত্যাশা’ আকারে বলতে হচ্ছে–এটিই আসলে দুর্ভাগ্য।’’ তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘জেন্ডার-বৈষম্যের বিষয়টি ক্ষমতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যারা ক্ষমতায় থাকেন, সাধারণত তারাই বৈষম্য টিকিয়ে রাখেন। তাই নতুন সরকারের উচিত নিজেদের এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের ব্যক্তিকে জেন্ডার সমতার বিষয়ে যথাযথভাবে শিক্ষিত ও সংবেদনশীল করে তোলা।’

নারীপক্ষের সদস্য ও আইনজীবী কামরুন নাহার মনে করেন, ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগগুলো অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘একজন নারীকে শুধু সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাবলম্বী করার পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণরা আকর্ষণ অনুভব করবেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন–এমন যুগোপযোগী কর্মসূচি নিতে হবে।’

আরও পড়ুন

×