মাস্টারশেফ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবিনা
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৭:০৪ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৬:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রান্না নিছক উদরপূর্তির কোনো মাধ্যম নয়; বরং এক অনন্য শিল্প। এই শিল্পের এক নিপুণ জাদুকর সাবিনা খান। ঐতিহ্য ও টেকসই জীবনযাপনের অপূর্ব মেলবন্ধনে তিনি তৈরি করেছেন রন্ধনশিল্পের এক নিজস্ব জগৎ। সম্প্রতি ‘মাস্টারশেফ যুক্তরাজ্য ২০২৬’-এর ২২তম আসরে বিচারকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
নিজেকে তিনি ‘বিশ্ব-স্বাদের অভিযাত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। জীবনের নানা বাঁকে ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির সান্নিধ্য পেয়েছেন সাবিনা। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা, ভারতে পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর শেষে প্রবাসজীবন–এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট তাঁর রন্ধনশৈলীতে। বিভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ ও উপাদান তাঁর হেঁশেলে এসে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তাঁর বিশ্বাস, একটি থালায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির পদ অনায়াসেই জায়গা পেতে পারে। তবে প্রতিটি পদের স্বাদ হতে হবে গভীর ও স্মরণীয়। এত অর্জনের পরও তাঁর রান্নার মূল অনুপ্রেরণা কিন্তু মায়ের হাতের রান্না, যা তাঁর মনে প্রথম কৌতূহল জাগিয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে সাবিনার নিজস্ব একটি পাতা রয়েছে, যা মূলত তাঁর সৃজনশীল রান্নার পরীক্ষাগার। সেখানে তিনি নতুন রান্নার কৌশল নিয়ে নিরীক্ষা চালান। ভক্তরাই তাঁর নিত্যনতুন সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি।
মাস্টারশেফের মঞ্চে পৌঁছানোর এই পথ সাবিনার জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। প্রায় ১৬ বছর আগে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও মাতৃত্বকালীন কারণে তাঁকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। তবে স্বপ্ন তাঁর মরে যায়নি। দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, গভীর ভালোবাসা ও অধ্যবসায় থাকলে বয়স কোনো বাধাই নয়। ৫০ ছুঁইছুঁই এই নারী আজ সেই সন্তানের অনুপ্রেরণাতেই বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে সাবিনা পরিবেশন করেন বাঙালির অতিপরিচিত খাবার ‘পেঁয়াজু’। তবে তাঁর জাদুকরী হাতের ছোঁয়ায় ডাল ও পেঁয়াজের সেই সাধারণ বড়াই বিচারকদের কাছে হয়ে ওঠে ‘আনন্দের গুলি’। এই দুই উপাদানের যুগলবন্দিতে এমন অভাবনীয় স্বাদ তৈরি হতে পারে, তা ছিল তাঁদের কল্পনাতীত।
শেষ আটের লড়াইয়ে তিনি নিয়ে আসেন এক অভিনব ‘সুষম মিশ্রণ’। দেশি মুড়ি, কালো ছোলা, কোয়েলের ডিম, ভিনেগারে জারিত বিট আর সরিষার তেলের প্রলেপের সঙ্গে ফরাসি রসুনের সাজসজ্জা–সব মিলিয়ে এক থালায় যেন বিশ্বসংস্কৃতির মহামিলন ঘটিয়েছিলেন তিনি। আগামী ছাঁটাই পর্বেও তাঁর রান্নার এই মুনশিয়ানা দেখার অপেক্ষায় আছেন দর্শকরা।
সাবিনা ভবিষ্যতে নিজের রন্ধন-দর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি বই লেখার পাশাপাশি খাবারের ইতিহাস নিয়ে ধারাবাহিক নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
