ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন

আইন আছে খাতায় প্রয়োগে নেই

আইন আছে খাতায় প্রয়োগে নেই
×
×

সালমা আলী, মানবাধিকার আইনজীবী

সালমা আলী

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। বিশেষ করে মাদ্রাসায় যা ঘটছে, তা একটি সামাজিক ব্যাধির চেহারা নিয়েছে। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, শিশু হোম– কোথাও শিশু পুরোপুরি নিরাপদ নয়। নানা জায়গায় দেখেছি বড় শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের হাতে ছোট শিশু নির্যাতিত হচ্ছে।
সংখ্যাও একই কথা বলছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের হিসাবে, অভিযুক্তদের ৫১ শতাংশই শিক্ষক। এ কেবল খবরে আসা ঘটনা। লজ্জা আর ভয়ে যা চাপা পড়ে, তার হিসাব কারও

কাছে নেই।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এতিম, দরিদ্র আর ভাঙা পরিবারের সন্তান। আশ্রয়ের খোঁজেই তারা মাদ্রাসা বা হোমে আসে। সে আশ্রয়ই তাদের অরক্ষিত করে। মা-বাবা পাশে নেই। মুখ খুললে আরও বড় বিপদ আসবে–এই ভয় তাদের ঘিরে রাখে। নিপীড়ক প্রভাবশালী হলে চুপ থাকাই হয়ে দাঁড়ায় একমাত্র পথ। আইন নেই–এ কথা বলার সুযোগ কম। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, দণ্ডবিধি–সবখানেই অপরাধ ও শাস্তির বিধান আছে। এ বছরের সংশোধনীতে ছেলেশিশুর ওপর বলাৎকারকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। সমস্যা প্রয়োগে আর নজরদারিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী সেল আছে, কিন্তু কওমি মাদ্রাসায় তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়মিত তদারকি প্রায় অনুপস্থিত। উদ্ধার হওয়া শিশুর পুনর্বাসনের জন্য যে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, সেখানেও সেবার ঘাটতি। ধর্ম, শিক্ষা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় চলে যার যার মতো। কেউ দায় নেয় না। সেই ফাঁক ভরাট করে অপরাধ।
গণমাধ্যমও সব ঘটনা সামনে আনতে পারে না। তথ্য মেলে না, মামলার জট, ভয়ের পরিবেশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অনলাইনে নিপীড়নের ছবি-ভিডিও ছড়ানো আর সাইবার বুলিং। আইন কঠোর কিন্তু বিচার চলে ধীরে। 
তাই চারটি কাজ এখনই দরকার। এক. মাদ্রাসা ও শিশু হোমে নিরপেক্ষ পরিদর্শন ও মনিটরিং সেল। দুই. রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবে কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায়। তিন. শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের প্রশিক্ষণ; ধর্মীয় শিক্ষার পাশে শিশুকে তার শরীর ও আইনি অধিকারের কথা শেখানো। চার. শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ সেল, যা তদন্ত থেকে প্রতিকার পর্যন্ত দায় নেবে।
মাদ্রাসায় নিপীড়নের কথা বলা মানে ধর্মীয় শিক্ষার বিরোধিতা নয়। বরং সেই শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার দাবি। যে শিশুর কেউ নেই, তার পাশে দাঁড়ানোর দায় রাষ্ট্রের। 

আরও পড়ুন

×