মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন
জবাবদিহির বাইরে শিশু নিরাপদ নয়
খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি
খুশী কবির
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিশু মাদ্রাসার সিঁড়িতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়।
নিপীড়ন হঠাৎ বেড়েছে কিনা, নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তুলনা করার মতো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। হতে পারে, মানুষ এখন বেশি মুখ খুলছে। হতে পারে, সমাজ বুঝেছে চুপ থাকার দিন ফুরিয়েছে। তবে বাড়ুক বা আগের মতোই থাকুক, ঘটনা ঘটছে। শিখতে গিয়ে কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হবে–এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের মাদ্রাসা মূলত দুই ধারার। আলিয়া মাদ্রাসা চলে সরকারি বোর্ডের অধীনে। সিলেবাস, পরীক্ষা, তদারকি–সবই একটা নিয়মের ভেতরে। কওমি মাদ্রাসা চলে নিজস্ব বোর্ডে। কী পড়ানো হচ্ছে, কে শিক্ষক হচ্ছেন, কমিটিতে কারা আছেন–এসব প্রশ্নে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা নেই। কর্তৃপক্ষও তা চায় না।
সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয়। মান নিয়ে প্রশ্ন আছে; পরিচালনা নিয়েও আছে। কিন্তু সেখানে নাগরিক হিসেবে জবাব চাওয়ার অধিকার আমার আছে। স্কুলের কমিটিতে অভিভাবকের প্রতিনিধি থাকেন। ব্যবস্থাটা যত দুর্বলই হোক, দরজাটা খোলা। যেখানে দরজাই নেই, সেখানে যার যা ইচ্ছা, তা-ই হবে।
সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সুরক্ষা কমিটি ও হটলাইন চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। উদ্যোগটি দেরিতে হলেও দরকারি। তবে নিজের ঘরের বিচার নিজে করলে জবাবদিহি পূর্ণ হয় না। কোনো মাদ্রাসা কি নিজে থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের হাতে তুলে দিয়েছে? ধর্মীয় নেতাদের কণ্ঠে কি এর বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ শুনেছি?
অনেকে প্রশ্ন করেন, জেনেশুনে মা-বাবা সন্তানকে সেখানে পাঠান কেন। উত্তরটা কেবল বিশ্বাসে নেই, আছে অভাবে। স্বামী ছেড়ে গেছে, এমন একা মা কাজে যান। শিশুকে রাখার কেউ নেই। খরচ কম, থাকা-খাওয়া মেলে বলে মাদ্রাসার বোর্ডিং হয় শেষ ভরসা। মূলধারার শিক্ষায় সরকারি আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে এ নিরুপায় পাঠানো অনেকটাই কমত।
আরেকটি ভয় আমাকে তাড়া করে। যে শিশু নির্যাতন দেখে বড় হয়, অথচ কারও শাস্তি হতে দেখে না, সে একে স্বাভাবিক ভাবতে শেখে। বড় হয়ে সে হয়তো একই কাজ করবে।
তাই সব মাদ্রাসাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান চলবে না। শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা আর অভিযোগ নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্র ও অভিভাবকের তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সব মাদ্রাসাশিক্ষক অপরাধী নন। কিন্তু অপরাধী যেন আড়াল না পায়, সে দায় সরকারের, সমাজেরও।
- বিষয় :
- শিক্ষা