ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে ঝুঁকি তুলনামূলক কম

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে  ঝুঁকি তুলনামূলক কম
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত পরিবর্তন আনছে বিশ্বের শ্রমবাজারে। এর মাধ্যমে কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে এখনও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে এ ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। এআইর প্রভাবজনিত কারণে এ অঞ্চলের শ্রমবাজার মাঝারি মাত্রায় সংবেদনশীল। এর কারণ হলো এ অঞ্চলে এখনও কম দক্ষ, কৃষিনির্ভর এবং হাতের কাজভিত্তিক কর্মসংস্থান বেশি। যেগুলো সাধারণত এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এ অঞ্চলে এআই-সম্পর্কিত 
দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয় যেসব কাজে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের হোয়াইট কলার জব অর্থাৎ প্রশাসনিক, ব্যবস্থাপনাগত বা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নিয়োজিত সাধারণ কর্মীদের তুলনায় এআই দক্ষরা ৩০ শতাংশ বেশি আয় করেন।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট-অক্টোবর প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে  দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজার এখনও তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ কাজ বা চাকরি এমন, যেখানে এআই ব্যবহারের ফলে সম্পূর্ণভাবে অটোমেশন হতে পারে। অন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির অঞ্চলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা চাকরির গড় হার ১৫ শতাংশ– যা দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় দ্বিগুণ। এআইর কারণে ঝুঁকিতে থাকা অনেক চাকরিতে সাধারণত নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করা হয়। যেমন– কল সেন্টারের এজেন্ট, ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামার, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক বা সাচিবিক কাজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মৌলিক রুটিন কাজ ইত্যাদি। এ অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণ হলো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমশক্তি এখনও প্রধানত কম দক্ষ, কৃষিনির্ভর ও হাতের কাজে নিয়োজিত, যেখানে এআইর প্রভাব সীমিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ বেতন ও দক্ষতাসম্পন্ন অনেক চাকরি এআই-সংবেদনশীল বেশি। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে নবীন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মীরা। তবে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন চাকরিতে মানুষের ও এআইর পরিপূরকতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত কর্মীরা এআই থেকে বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে মানুষ ও এআই একে অপরকে পরিপূরকভাবে সাহায্য করে। এ ধরনের পেশাগুলোতে সাধারণত বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। যেমন সিইও, ডাক্তার, শিক্ষক বা আইনজীবী। এ ধরনের কাজে নিয়োজিতরা এআইর সাহায্যে উৎপাদনশীলতা বা সেবার পরিধি বাড়াতে পারেন।
চাকরির বিজ্ঞাপন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জেনারেটিভ এআই  চালুর পর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও কম পরিপূরক হোয়াইট কলার জবের মাসিক বিজ্ঞাপন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে ব্যবসা পরিষেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এটি বেশি হয়েছে। তবে যেসব চাকরিতে মানুষ ও এআইর পরিপূরক ভূমিকা বেশি, সেখানে চাকরির বিজ্ঞাপন কমেনি। সবচেয়ে বড় ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে মধ্যম দক্ষতা ও প্রবেশ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআই থেকে সর্বাধিক সুফল পেতে হলে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দ্রুত ও স্থির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা জরুরি। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার উন্নয়ন এআইর ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ এআই উদ্ভাবকদের অন্য দেশে চলে যাওয়াও কমানো সম্ভব। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার এআই-সংবেদনশীল চাকরির প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষের দক্ষতা ও এআই একে অন্যের জন্য উচ্চপর্যায়ের পরিপূরক। এ হার অন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোতে গড়ে ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও কম ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া। এ ধরনের কাজ বা চাকরিতে নিয়োজিতদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও কম থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি ভারতের। আর সবচেয়ে কম শ্রীলঙ্কায়।

আরও পড়ুন

×