ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যরা এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে বাংলাদেশ

অন্যরা এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে বাংলাদেশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়, বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করে বড় করতে হয় শেয়ারবাজার– এই মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বড় হয়েছে প্রতিবেশী ভারতের শেয়ারবাজার। ভারতে এ বাজার এখন বৈশ্বিক নজর কাড়ছে। সংকটের মাঝেও কার্যকর বাজার তৈরি করেছে পাকিস্তান। ছোট অর্থনীতির দেশ হয়েও শেয়ারবাজার শৃঙ্খলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্প থাকলেও শেয়ারবাজারে যেন স্থবিরতার বৃত্তে আটকে আছে।

এ অঞ্চলের বাজারগুলোর অবস্থা
ভারতের শেয়ারবাজারের গল্পটি মূলত আস্থার গল্প। এ বাজারে প্রতিদিন যে লেনদেন হয়, তা কয়েক লাখ কোটি রুপির ঘরে ওঠানামা করে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বিশাল লেনদেনের বড় অংশই আসে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। কোটি কোটি ডিম্যাট হিসাব, নিয়মিত মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল ট্রেডিং অবকাঠামো– সব মিলিয়ে একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে। 
এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক নীতিমালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান–এসব মিলিয়ে বাজারে একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ বাজারে আইপিও শুধু মূলধন সংগ্রহের সুযোগ নয়, বরং কোম্পানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এ কারণে কেবল ২০২৫ সালে শতাধিক কোম্পানি ভারতের শেয়ারবাজার থেকে আইপিও প্রক্রিয়ায় প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি রুপির মূলধন সংগ্রহ করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার বেশি। একই সময়ে আড়াই শতাধিক এসএমই কোম্পানি প্রায় ১১ হাজার কোটি রুপির মূলধন সংগ্রহ করেছে। প্রতিবছর এর পরিমাণ বাড়ছে।

পাকিস্তানের অর্থনীতি নানা চাপে থাকলেও তাদের শেয়ারবাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, বরং একটি কার্যকর কাঠামো ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে সেখানে সাতটি আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ কোটি পাকিস্তানি রুপির মূলধন সংগ্রহ হয়েছে। সংখ্যা কম হলেও বাজারে প্রাইস ডিসকভারি বা প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। এ বাজারে দৈনিক লেনদেন প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি পাকিস্তানি রুপির কাছাকাছি থাকে। বাজারে তারল্য ধরে রাখতে সুদের হার, মুদ্রানীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংকটের সময়েও বাজারকে পুরোপুরি ‘প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার চেষ্টা করা হয়নি। বরং বাজারকে নিজের মতো করে সামঞ্জস্য খুঁজে নিতে দেওয়া হয়েছে।
ছোট অর্থনীতির দেশ শ্রীলঙ্কার শেয়ারবাজার আকারে ছোট, কিন্তু কাঠামোগত দিক থেকে অনেক বেশি সুগঠিত। ২০২৫ সালে তাদের দৈনিক গড় লেনদেন পৌনে দুই কোটি ডলারের মতো, যা বড় বাজারের তুলনায় নগণ্য, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাজারটি এর আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শ্রীলঙ্কার শেয়ারবাজারের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকা। নিয়ন্ত্রক কাঠামো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ফলে ছোট হলেও বাজারটি কার্যকরভাবে চলছে।

অন্যদিকে গত প্রায় দুই বছর বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কোনো আইপিও নেই। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কদাচিৎ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হলেও মাঝে মধ্যে তা ৩০০ কোটি টাকার ঘরেও নামে। গড় লেনদেন ঘোরাফেরা করে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ঘরে। যেখানে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু পরিচালন ব্যয় মেটাতে দৈনিক ৮০০ কোটি টাকার লেনদেন হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের দুর্বলতা শুধু আকারে ছোট হওয়ার কারণে নয়, বরং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায়। এখানে সমস্যা শুরু হয় নীতিগত অস্থিরতা দিয়ে। আইপিও বাজারও খুব দুর্বল। ভালো মানের বড় কোম্পানি আসে না। যেগুলো আসে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর্থিক প্রতিবেদন থাকে জাল-জালিয়াতিতে ভরপুর। তালিকাভুক্তির পরপরই অনেক শেয়ারের দর পড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা আরও বাড়ে।

আরও পড়ুন

×