দেশের শেয়ারবাজার কেন পুঁজির প্রধান উৎস নয়
আনোয়ার ইব্রাহীম
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি বটবৃক্ষের চারাকে টানা সত্তর বছর ধরে যখন সযত্ন ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ছোট করে রাখা হয়, তখন সেটি আর মহিরুহ হয়ে উঠতে পারে না। হয়ে ওঠে শৌখিন মানুষের ড্রয়িংরুমের ‘বনসাই’। দেশের শেয়ারবাজারের গল্পটাও ঠিক তেমনই।
১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকার শেয়ারবাজার। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সহযোগীর ভূমিকা নিতে পারেনি পুঁজিবাজার। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাজার হিসেবে ভূমিকা রাখার বদলে যুগ যুগ ধরে মুষ্টিমেয় সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজি ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফার ক্ষেত্র হয়ে আছে।
গত দুই যুগের ইতিহাস বলছে– এ বাজার থেকে মুনাফা তো নয়ই, পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফেরা এমন মানুষের সংখ্যা অন্তত অর্ধকোটি।
পুঁজি সরবরাহকারীদের অভিজ্ঞতা– এ বাজার নিয়ে যতটা তিক্ত, পুঁজি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের এ বাজারের প্রতি অনীহা ততটাই বেশি।
ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় শেয়ারের তথ্য সংরক্ষণকারী সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। অথচ এখন সক্রিয় অ্যাকাউন্ট মাত্র সাড়ে ১৬ লাখ। এর মধ্যে শেয়ার আছে মাত্র ১২ লাখ অ্যাকাউন্টে। ১২ লাখের মধ্যে আট লাখ ৩১ হাজার অ্যাকাউন্টে বাজারমূল্যে এক লাখ টাকার কম বিনিয়োগ আছে।
যদিও দেশে বিনিয়োগ সক্ষম অন্তত দুই কোটি মানুষ ব্যাংকে সাড়ে ১৪ লাখ কোটি টাকা জমা রেখেছেন এবং ৫২ লাখ মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা। এমনকি কয়েকটি বীমা কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশের ক্ষেত্রে বীমা দাবি পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় জেনেও ৭২ লাখ মানুষ বীমা পলিসি করছেন, এখন বছরে প্রিমিয়াম জমা দেন ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এই মানুষই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আস্থা রাখেন না।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অনীহা
যৌথ মূলধনি (জয়েন্ট স্টক) কোম্পানিগুলোর নিবন্ধক সংস্থা আরজেএসসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানি অন্তত দুই লাখ ২২ হাজার। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আছে দুই হাজার ৮৩৩টি। অন্তত এগুলো পুঁজির প্রয়োজনে পুঁজিবাজারমুখী হতে পারত। এ সংখ্যা চারশই পার হয়নি।
আবার যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে, সেগুলোর অনেকেরই উদ্দেশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে পুঁজি সংগ্রহ করা ছিল না। উদ্যোক্তা মালিকদের উদ্দেশ্য ছিল তালিকাভুক্তির আগে ভুয়া শেয়ার ইস্যু করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া। নিজের আখের গোছানো শেষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কোম্পানির মালিক লাপাত্তা। কিছু কোম্পানির অস্তিত্ব নেই। বিগত আওয়ামী লীগের শেষ ১৫ বছরের কারসাজির কিছু ঘটনা খতিয়ে দেখতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা রাষ্ট্রের অন্য কোনো ব্যবস্থা থেকে এ নিয়ে কারও কোনো জবাবদিহি ছিল না।
এই নির্লিপ্ততার ফলও দৃশ্যমান। বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩৬০টি, যার ১১২টিই ‘জেড’ ক্যাটেগরিভুক্ত। এসব কোম্পানি হয় উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ, অথবা ভীষণভাবে রুগ্ণ, যাদের লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করতে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাজার কোটি টাকার শেয়ার রাতারাতি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ৮১টি কোম্পানি রয়েছে, যেগুলো নামে মাত্র লভ্যাংশ দিয়ে ‘বি’ ক্যাটেগরিভুক্ত শেয়ার হিসেবে টিকিয়ে রাখছে। এদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে মাত্র আড়াই পয়সা থেকে পাঁচ পয়সা লভ্যাংশ দিচ্ছে।
ভালো শেয়ারের ক্যাটেগরি ‘এ’-এর মধ্যেও এমন কয়েকটি কোম্পানি আছে, যেগুলোর আদতে ব্যবসা কার্যক্রম নেই। কাগজে-কলমে ভুয়া ব্যবসা ও মুনাফা দেখিয়ে ১০ শতাংশ হারে শেয়ারহোল্ডারদের কয়েক কোটি টাকা লভ্যাংশ দিচ্ছে। এর বাইরে একেবারে অস্তিত্ব নেই, বন্ধ হয়ে গেছে, অত্যন্ত রুগ্ণ ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ২০০৯ সালে ৭৬টি তালিকাচ্যুত করা হয়। এসব কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার জন্য ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) নামে পৃথক ব্যবস্থা চালু করা হয়। এখনও এ বাজারে এমন কোম্পানি রয়েছে ৫৬টি। এর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ নামের ৮২৮ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানিও আছে, যার উদ্যোক্তারা লাপাত্তা, যাদের নামে পড়ে আছে মাত্র আড়াই শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ার বিক্রি করে পালিয়েছেন তারা।
সরকারের গুরুত্ব পেয়েছে কম
রাষ্ট্রের মালিকানাধীন কোম্পানির সরাসরি মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে অনীহা আছে সরকারের। সরকারি চার শতাধিক কোম্পানির মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মাত্র ২০টি। ২০০৭ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও ২৭টি লাভজনক কোম্পানির মালিকানার কিছু অংশ জনগণের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
সরকার নিজের অর্থায়নের জন্যও ব্যাংক ঋণনির্ভর। ট্রেজারি বিল-বন্ড বাজারও ব্যাংককেন্দ্রিক, যার ক্রেতা শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বীমা কোম্পানি। ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন কাঠামোর বাইরে এসে করপোরেট খাতকে ‘ইক্যুইটি’ বা মূলধন অর্থায়নে উৎসাহিত করার কার্যকর উদ্যোগও ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত। চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
ব্যবসায় অর্থায়নে উল্টো রথে বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় ও শিল্পায়নে পুঁজির প্রধান উৎস পুঁজিবাজার। কখনও বন্ড, কখন শেয়ার বিক্রি করে উন্নত ও উন্নয়নশীলসহ বিশ্বের বহু দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা পুঁজি সংগ্রহ করেন।
বিশ্বের ৩৮টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের আন্তঃসরকারি অর্থনৈতিক সংস্থা ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে বৈশ্বিক বন্ড বাজারের আকার ছিল ১৪৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেসের তথ্য বলছে, একই সময় শেষে ইক্যুইটি বা শেয়ারবাজারের আকার প্রায় ১৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকেনজির হিসাবে ব্যাংক অর্থায়ন বাজারের আকার প্রায় ৭০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক বন্ড ও ইক্যুইটি বাজারের মাত্র ২৪ শতাংশ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্র পুরো বিপরীত। এখানে ব্যবসায় ও শিল্প অর্থায়নের প্রায় শতভাগই ব্যাংক অর্থায়ননির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে সরকারি বন্ডের বাজার থাকলেও বেসরকারি খাতের আদতে কোনো বন্ড বাজার নেই। সরকারি বন্ডের শতভাগের ক্রেতা ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি। ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও মানুষের মধ্যে এ নিয়ে জানা বোঝা নেই। ফলে সরকারের বন্ড বাজারটিকে পুঁজিবাজারে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে চাইলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি নয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ১৬টি করপোরেট বন্ডের মধ্যে ১৪টিই ব্যাংক খাতের, যে বন্ডের ক্রেতাও অন্য ব্যাংক। আর দেশের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন সোয়া তিন
লাখ কোটি টাকা। সরকার ও উদ্যোক্তাদের বাইরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাজারমূল্যে মাত্র সোয়া এক লাখ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের এক-তৃতীয়াংশ আবার ব্যাংক খাতে।
দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব সর্বত্র
সরকারের অনীহার প্রভাব দেশের শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রায় সব স্তরের নেতৃত্বে স্পষ্ট।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ, বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি–অনেক ক্ষেত্রেই অদক্ষ, অনভিজ্ঞ ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের উপস্থিতি বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
১৯৯৩ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠিত হলেও দক্ষ, স্বাধীন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই কারসাজিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, তদন্তেও যার সত্যতাও মিলেছে। বাজার উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেওয়ার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। ফলে নীতির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি, তদারকি দুর্বল থেকেছে, আর আইন প্রয়োগে বৈষম্য বাজারের প্রতি আস্থাকে ক্ষয় করেছে। এমনকি নতুন বিধি করছে বাজার বাস্তবতার বাইরে গিয়ে। ফলে কার্যকর করতে পারছে না।
স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতেও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব প্রকট। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় এমন অনেক স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছেন, যাদের পুঁজিবাজার বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা সীমিত। অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডার পরিচালকরা অনেক সময় বৃহত্তর বাজার স্বার্থের বদলে নিজ নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। ব্যবস্থাপনার শীর্ষ স্তরেও দক্ষতার ঘাটতি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন খালি থাকার মতো সমস্যা রয়েছে।
২০০৯ সালের পর ব্যাংক, বীমা ও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং খাতে প্রবেশ করলেও প্রত্যাশিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। দক্ষ জনবল, গবেষণা সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক বিনিয়োগ কৌশল তৈরির বদলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগের পরিবর্তে কিছু প্রতিষ্ঠানও বাজার কারসাজি ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফার পেছনে ছুটছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও একই চিত্র। কয়েকটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুট, অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ আছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত এক দশকে এ খাত থেকে হাজার কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হওয়ার প্রমাণের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা করা ছাড়া বিনিয়োগকারীদের সম্পদ উদ্ধারে দৃশ্যমান কিছুই করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এমন একটি বাজারে সক্রিয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের মানসিকতাও স্বল্পমেয়াদি লাভ, গুজবনির্ভর কেনাবেচা এবং কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারদর বাড়ানোর প্রবণতা এখনও প্রবল। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অংশ মোট লেনদেনের তুলনায় ২০ শতাংশও নয়। ফলে বাজার দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আকস্মিক দর পতনের চক্রে আটকে আছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ বা দুর্বল কোম্পানির শেয়ারও উচ্চমূল্যে লেনদেন হতে দেখা যায়, যেখানে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের যথাযথ আগ্রহ পায় না। লোকসানের ভয়ে অনেক বিনিয়োগকারী মানসম্মত শেয়ারে যেতে চান না, বরং দ্রুত লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে ঝুঁকে পড়েন।
এমনকি পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বেশি অনিশ্চয়তায় থাকা দেশগুলোর বাজারেও বিদেশি বিনিয়োগের উপস্থিতি বাংলাদেশের তুলনায় বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশিদের অংশগ্রহণ দেড় শতাংশও নয়।
সব মিলিয়ে দেশের শেয়ারবাজার এখনও খুচরা বা ব্যক্তি বিনিয়োগকারীনির্ভর। অথচ একটি পরিণত পুঁজিবাজার হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক, গবেষণানির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কেন্দ্র। এই বাস্তবতা না বদলালে দেশের শেয়ারবাজার অর্থনীতির ইঞ্জিনে পরিণত হবে না; বরং অনিশ্চয়তা, আস্থাহীনতা ও অকার্যকারিতার ক্ষেত্র হিসেবেই থেকে যাবে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার
