ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, ফের কর্মপরিকল্পনা

ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত  হয়নি, ফের কর্মপরিকল্পনা
×

জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৮ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রচলিত ইটের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ২০১৯ সালে আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইনে সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সম্প্রসারণের কাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে সরকারি সব নির্মাণকাজে প্রচলিত ইটের পরিবর্তে শতভাগ ব্লক ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার এখনও ১০ শতাংশের কম। বেসরকারি খাতে নির্মাণকাজেও ব্লক ব্যবহারের হার হতাশাজনক। 

এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পর্যায়ক্রমে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের প্রাক্কলন, নকশা, দরপত্র ও কারিগরি বিবরণ তৈরির পর্যায় থেকেই নির্ধারিত হারে ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে  অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্লকের দাম বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি দপ্তরগুলোর রেট শিডিউল পুনর্নির্ধারণ, ব্লকে আরোপিত ভ্যাট ও ব্লকের কাঁচামাল আমদানিতে থাকা শুল্ক-কর যৌক্তিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সদস্য (বিসিবিপিএমএস) এবং অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্লক কী দিয়ে তৈরি
মাটি পুড়িয়ে সাধারণত প্রচলিত ইট তৈরি হয়। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমার পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হয়। এ জন্য ব্লকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পরিবেশবান্ধব ও ভূমিকম্প সহনীয় নির্মাণসামগ্রীর নাম হচ্ছে ‘ব্লক’। পলি বালুমাটি, সিমেন্ট ও কিছু রাসায়নিকের সমন্বয়ে ব্লক তৈরি হয়। দেশে বিভিন্ন ধরনের ব্লক তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি হয় সলিড ব্লক ও হলো ব্লক। হলো ব্লকের মাঝে ফাঁকা থাকে। বাড়ি নির্মাণকাজে এটি ব্যবহার করলে ইটের তুলনায় ভবনের ওজনও কম হয়। তামমাত্রা সহায়ক হয়। নদী ড্রেজিং করা বালুমাটির সঙ্গে ১০ শতাংশ সিমেন্ট মিশিয়ে এ ব্লক বানানো হয়। ২০ শতাংশ সিমেন্ট এবং ৮০ শতাংশ বালু মিশিয়ে তৈরি করা হয় কংক্রিট বা সলিড হলো ব্লক। এসব ব্লক রাস্তার ফুটপাত বা বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার হয়। বর্তমানে প্রতিটি প্রচলিত ইটের দাম ১২ থেকে ১৩ টাকা আর একটি ব্লকের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। একটি ব্লক পাঁচটি ইটের সমান। পাঁচটি ইটের দাম পড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। উদ্যোক্তাদের দাবি, ইটের বদলে ব্লক ব্যবহার করলে অন্তত ২০ শতাংশ খরচ কম হয়।

৪০০ কারখানা, সংকট অর্থায়নে
বিসিবিপিএমএসের সদস্যরা জানান, দেশে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক উৎপাদন করে ছোট-বড় এমন অন্তত ৪০০ কারখানা আছে। একটি মানসম্মত স্বয়ংক্রিয় ব্লক কারখানা স্থাপন করতে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং মাঝারি আকারের কারখানার জন্য পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ খাতের উৎপাদন ও বিপণনে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রসারে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি নীতিমালার ধীর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও কাঁচামালের সংকট, উচ্চ পরিবহন খরচ, মাটির ইটের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা, ব্যবহারকারীদের সচেতনতার অভাব, দক্ষ জনবল ও কারিগরি জ্ঞানের অভাব উল্লেখযোগ্য। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা সরকারি প্রকল্পে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতির কারণে এ খাতের উন্নয়ন বেশি বাধাগ্রস্ত।

নির্ধারিত সময় পেরোলেও ব্যবহার বাড়েনি
প্রচলিত ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির ওপরের অংশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হয়। তা ছাড়া ইট পোড়ানোর সময় ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করে। তাই প্রচলিত ইটের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ২০১৯ সালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইনে সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সম্প্রসারণের কাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বরের এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি নির্মাণকাজে ধাপে ধাপে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানো হবে। সরকারি নির্মাণকাজে ২০১৯-২০ অর্থবছরের মধ্যে ১০ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসেও সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের হার ১০ শতাংশের কম।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সরকারি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিজাইন, ড্রয়িং, বিওকিউ, টেন্ডার ডকুমেন্ট, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও ওয়ার্ক শিডিউল প্রণয়নের পর্যায় থেকে নির্ধারিত হারে ব্লক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি নির্মাণকাজে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৌশলী, স্থপতি, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের ব্লক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

ইট বিক্রিতে ভ্যাট ৫%, ব্লকে ১৫%
এ খাতের উৎপাদনকারীরা জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্লকশিল্পের সম্প্রসারণে কর-ভ্যাটের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ব্লকের ওপর আরোপিত ভ্যাট এবং ব্লক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের কর ও শুল্ক যৌক্তিক করার জন্য এনবিআরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৬-২৭ অর্থবছর অনুযায়ী বর্তমানে কংক্রিট ব্লক, এএসি ব্লকসহ পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন, এর কাঁচামাল আমদানি এবং স্থানীয় সরবরাহের ওপর বিভিন্ন শুল্ক-কর রয়েছে। তা ছাড়া ভ্যাটের ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। যেখানে সাধারণ মানের ইট বিক্রিতে ভ্যাট ৫ শতাংশ, সেখানে ব্লক বিক্রিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ রয়েছে। এতে এ খাতের সম্প্রসারণ ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সরকার উদীয়মান খাতকে সব সময় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। তবে এখন রাজস্ব আয়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এনবিআরের মাথার ওপর। তাই এই ভ্যাট ছাড় সংক্রান্ত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতায় নেই এনবিআর। ছাড় দেবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া চিঠিতে ব্লক খাত সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা ও ব্যাংক ঋণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো ও কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে শিল্পের উপজাত, যেমন–স্ল্যাগ ও অকেজো কংক্রিটসামগ্রী পুনর্ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে ব্লক ও ইটের উৎপাদন এবং প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) বিভিন্ন ধরনের ব্লকের মান নির্ধারণ ও এইচবিআরআইকে মানসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য ব্লকের প্রতিটি উৎপাদন চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অগ্রগতি পর্যালোচনায় কমিটি 
চিঠিসূত্রে জানা গেছে, ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশোধিত রোডম্যাপ পর্যালোচনায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারক, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং রোডম্যাপ চূড়ান্তকরণে ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। প্রতি মাসে একবার কমিটিকে পরিবেশমন্ত্রী ও সচিবের কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে।

ব্লকের সম্প্রসারণে প্রধান বাধা
এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, মানুষ যুগ যুগ ধরে মাটির পোড়ানো ইট ব্যবহার করছে। ব্লকের কার্যকারিতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ক্ষমতা সম্পর্কে সাধারণ গ্রাহকের মাঝে এখনও সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া যেখানে-সেখানে মাটির ইট সহজেই পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্লকের তুলনায় এর প্রাথমিক খরচ কিছুটা কম মনে হয়। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে ব্লকের কারখানাগুলো বাজার ধরতে পারছে না। সরকারি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন কম। তারা বলছেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়া বেশ জটিল। ফলে কেউ কেউ চাইলেও  অর্থায়ন সংকটে কারখানা সম্প্রসারণ করতে পারেন না। 
উৎপাদনকারীদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনও দেশের আনাচে-কানাচে ১০ হাজারের বেশি মাটির ইটভাটা রয়েছে, যা ব্লকশিল্পের বিকাশে একটি বড় বাধা। তা ছাড়া প্রচলিত পদ্ধতির এসব ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহ করে তা দিয়ে ইট বানানো হয়। এতে কৃষিজমি উর্বরতা হারায়। ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ ছাড়া উন্নত মানের ব্লক তৈরির অন্যতম উপাদান হলো ‘ফ্লাই অ্যাশ’ এবং পাথরের গুঁড়ো। বাংলাদেশে মানসম্মত ফ্লাই অ্যাশের স্থানীয় জোগান সীমিত হওয়ায় আমদানি করতে হয়, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তা ছাড়া ব্লক দিয়ে দেয়াল গাঁথুনি এবং প্লাস্টারিং করার প্রযুক্তি প্রথাগত ইটের চেয়ে কিছুটা আলাদা। দেশের সিংহভাগ রাজমিস্ত্রি ব্লক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানেন না। ফলে ব্যবহারকারীরা ব্লকের চেয়ে সাধারণ ইট বেছে নেন।
সিডিসি প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান কাজী আবিদ হাসান সমকালকে বলেন, ‘এ খাতে বিনিয়োগ করে বড় লোকসানে পড়েছি। নানা প্রতিবন্ধকতায় কারখানা এখন প্রায় বন্ধের পথে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।’

বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলকর শাহীন বলেন, শুধু পরিকল্পনা হয়, তা বাস্তবায়ন হবে না। 
এ বিষয়ে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, ব্লকের ব্যবহার কিছু কিছু জায়গায় হচ্ছে। সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সভা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধে মূলত ব্লকের ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 
তিনি বলেন, মাটি পুড়িয়ে প্রচলিত যে ইট বানানো হয়, সেখানে মাটির ওপরের উর্বর অংশ ব্যবহার হয়। পরিবেশ দূষণও হয়। পক্ষান্তরে ব্লক বানাতে প্রচুর সিমেন্টের প্রয়োজন হয়, সেখানেও পরিবেশের দূষণ হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব ওবায়দুর মো. রহমান সমকালকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম,  আমাদের নির্মাণকাজে ৯০ শতাংশ ব্লকের ব্যবহার করছি। তবে আগামী বছর থেকে শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ওই সভায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও তাদের কাজে ৯০ শতাংশ ব্লকের ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে ব্লকের কত শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে, তা জানা নেই।’

আরও পড়ুন

×