ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চমেক হাসপাতাল

ট্রলির ওপর, মেঝেতে রেখেও গুলিবিদ্ধ অনেককে চিকিৎসা

ট্রলির ওপর, মেঝেতে  রেখেও গুলিবিদ্ধ  অনেককে চিকিৎসা
×

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম 

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা ছুঁইছুঁই। ভ্যান, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, টেম্পোসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একে একে আনা হয় আহতদের, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ। গুলিতে এদের কারও ঝাঁঝরা হয়েছে পুরো পিঠ, কারও গুলি লেগেছে বুকে, পেটে, হাত-পা বা মাথায়। অজ্ঞান অবস্থায়ও আনা হয় বেশ কয়েকজনকে। প্রতি মিনিটে গুলিবিদ্ধ অন্তত তিনজনকে আনা হয় জরুরি বিভাগে। মাত্র ২০ মিনিটেই গুলিবিদ্ধদের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয় হাসপাতালজুড়ে। 

দুই বছর আগে আজকের এই দিনে এমন ভয়াবহ এক দুঃসহ দিনের সাক্ষী হয়েছিল চমেক হাসপাতাল ও এখানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্টরা। 
দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালানোর দিন। একই সঙ্গে এটি ছিল অনেক তাজা প্রাণের বিনিময়ে টানা কয়েক মাসের লড়াই-সংগ্রামের বিজয়ের দিনও। সেদিন দুপুরের দিকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন ছাত্র-জনতা থেকে সর্বস্তরের মানুষ। 
তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বেশ কিছু এলাকা। শেখ হাসিনার পালানোর বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ছাত্র-জনতার ওপর আবারও গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। বিকেল ৫টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক স্থানে দফায় দফায় হামলা-সংঘর্ষ-গুলির ঘটনা ঘটে। এতে নিমেষেই রক্তাক্ত হয় চমেক হাসপাতাল। আর্তনাদ, আহাজারিতে জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। গুলিতে কারও ঝাঁঝরা হয়েছিল মাথা, কারও বুক, পেট, হাত-পা বা চোখ। বেশির ভাগের বয়স ছিল ১৪ থেকে ৩০ বছর। গুলিতে রক্তে ভিজে যায় জুলাইযোদ্ধাদের শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট। মাত্র এক ঘণ্টায় গুলিবিদ্ধ আহতদের সংখ্যা পার করে দেড় শতকের ঘর। 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, চমেক হাসপাতালে সেদিন চিকিৎসক, নার্সরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা এগিয়ে না এলে অনেকের জীবন বাঁচানো যেত না। 
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিনও দায়িত্ব পালন করে অনেকেই তখন মাত্র বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক তখনই খবর এলো– নগরজুড়ে গোলাগুলি হচ্ছে, গুলিবিদ্ধদের অনেককেই আনা হচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় গুলিবিদ্ধদের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যায়। এতে সবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। যে কারণে ট্রলিতে, মেঝেতেও অনেককে চিকিৎসা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমেই আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চলছে। এখন প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×