ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিলাস থেকে ব্যবহারিক পণ্য

বিলাস থেকে ব্যবহারিক পণ্য
×

 রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:৫৩

প্রচণ্ড গরমে ঘেমে জবুথবু হয়ে বাইরে থেকে ফিরেই ঢকঢক করে এক গ্লাস বরফশীতল পানি পানের ইচ্ছে হয়। ফ্রিজের সেই ঠান্ডা পানি পান করে আত্মা তৃপ্ত হয়। শান্ত হয় মন। এরপর এসি ছেড়ে ঘামহীন শীতল পরিবেশে খানিকটা আরামে থাকাটাও যেন সময়ের দাবি। বাসা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–এমনকি হাসপাতালেও রেফ্রিজারেটর ও এসির প্রয়োজন অনস্বীকার্য। 

ফ্রিজ ও এসি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে সহজ, সুন্দর ও আরামদায়ক করেছে–এ কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্বীকার করতে হয়। এক সময় দুটোই ছিল ধনীদের বিলাসপণ্য। সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন রেফ্রিজারেটর ও এসি ছাড়া বাসা-অফিস-হাসপাতাল চলবে–সে কথা কল্পনাই করা যায় না। কেননা খাবার সংরক্ষণের জন্য যেমন রেফ্রিজারেটর প্রয়োজন, তেমনি ওষুধ, ইনসুলিন, ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল সামগ্রী রাখার জন্যও দরকার। ফ্রিজে কম তাপমাত্রায় খাবার রাখলে তা তাজা থাকে, পুষ্টিগুণ বজায় থাকে, খাবার অপচয় হয় না, এমনকি প্রতিদিন বাজার করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অত্যাধুনিক ফ্রিজগুলোতে স্মার্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকে, যা বিদ্যুৎ খরচ কমায়। আবার স্মার্টফোনের মাধ্যমে খাবার সংরক্ষণের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা যায়।

রেফ্রিজারেটরের খাবার তো নিয়মিত খাওয়া হয়। কিন্তু এর স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কি? সাজেদা ফাউন্ডেশনের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান জানান, রেফ্রিজারেটরের নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে। যদি এর রক্ষণাবেক্ষণ ও টেম্পারেচার ঠিক থাকে, তাহলে খাবারের মানও বজায় থাকে। যে খাবার যে তাপমাত্রায় রাখা উচিত, যে চেম্বারে রাখা উচিত সেটি সেখানেই রাখতে হবে। 

তিনি জানান, ফ্রিজ ভালো রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিষ্কার করতে হবে। কেবল কোরবানির সময়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করলে হবে না। সপ্তাহে এক দিন বা মাসে তিন দিন অর্থাৎ মাসিক রুটিন মেনে পরিষ্কার করলে ফ্রিজ ভালো থাকে। 

‘বাজার থেকে কাঁচা খাবার এনে তা সরাসরি পলিথিনে করে ফ্রিজে রাখি। এতে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। কারণ সেই একই জায়গায় রান্না করা খাবারও রাখা হয়। সব খাবার একসঙ্গে রাখলে টেম্পারেচার লো হয়ে যায়। খাবারের মধ্যে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। যদি সঠিকভাবে খাবার রাখা হয় তাহলে ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না’–বলেন ইসরাত। 

এসির বাতাসে থাকা কী ক্ষতিকর? 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক লুনা পারভীন জানান, এসির বাতাস শিশু ও বড়দের জন্য ক্ষতিকর নয়। অনেকক্ষেত্রে উপকারী। কারণ শিশুরা বাইরের প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে পারে না। গরম ও ঘাম থেকে তাদের ঠান্ডা লাগে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকলে বাইরের ধুলাবালি, গরম-ঘামে তাদের কষ্ট হয় না। ডিহাইড্রেশন হয় না। শিশু কম অসুস্থ হয়। তবে রাখতে হবে স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্যে। তাপমাত্রা বেশি কমালে বা বাড়ালে শিশুর সমস্যা হতে পারে। 

এসি থেকে হুট করে প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় গেলে সমস্যা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সারাদিন এসির বাতাসে থাকলে কারও কারও ত্বক ও চোখ শুষ্ক হতে পারে। তাপমাত্রা বেশি কমানো থাকলে কারও কারও মাথাব্যথা, জ্বর ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এসি রুমে থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পর পর পানি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন

×