ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ ইয়ামাল-কেটেলারা দ্বৈরথ

লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ ইয়ামাল-কেটেলারা দ্বৈরথ
×

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩২

লামিনে ইয়ামালকে ঘিরেই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুনছে স্পেন। সে স্বপ্ন পূরণের পথে আজ কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়ামের। ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম প্রায় বিদায়ের পথে। তারা এখন তরুণ স্ট্রাইকার চার্লস ডি কেটেলারাকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি বেলজিয়ান শিবিরের বড় তারকা হয়ে উঠেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ শেষ আটের লড়াইয়ে এই দুই তারকার ওপর নির্ভর করছে দুই দলের সাফল্য।

ইয়ামাল অবশ্য এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। চোট নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন। বার্সার হয়ে গত এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছিলেন। পর্তুগালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা শেষ ষোলোর ম্যাচেই কেবল ইয়ামাল পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। কিন্তু পুরোনো ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য ভীষণ আত্মবিশ্বাসী তাঁকে নিয়ে। কোচের বিশ্বাস, পুরো ফিট হয়ে ওঠায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে নতুন এক ইয়ামালকে দেখা যাবে। বার্সার এই তারকাকে নিয়ে ইএসপিএনকে কোচ ফুয়েন্তে বলেন, ‘লামিনের উন্নত সংস্করণ দেখার আশা করছি। যেমনটা তরুণরা বলে থাকে, আমরা ২.০ দেখার প্রত্যাশা করছি।’ তাই বলে অতি আশাবাদী হতে বারণ করেছেন কোচ, ‘আমাদের এটা মনে রাখা উচিত সে মাত্র চোট থেকে উঠেছে। এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ আমাদের সামনে। সে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এমনকি সতীর্থদেরও অনুপ্রাণিত করছে সে।’

গত এপ্রিলের পর ইয়ামাল প্রথম মাঠে নামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে। বদলি হিসেবে নেমে সে ম্যাচে অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে পরের ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ঠিকই গোল পান। এরপর থেকে প্রতি ম্যাচেই শুরুর একাদশে থাকছেন, কিন্তু গোল পাচ্ছেন না। তবে গোল না পেলেও ইয়ামালের মাঠে থাকাটাই দলের জন্য আশীর্বাদ মনে করছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমো। ইয়ামালের মতো একজন দলে থাকাটা ভাগ্য মনে করছেন তিনি, ‘তার উপস্থিতিই দলের জন্য অনেক বড় বিষয়। অসামান্য ড্রিবলিং ক্ষমতা দিয়ে সে প্রতিপক্ষের সীমানায় প্রায়ই ভীতি ছড়ায়। যখনই সে বল ধরে প্রতিপক্ষের দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ধরে। এতে করে দলের অন্যরা অনেক বেশি ফাঁকা জায়গা পেয়ে যায়। লামিনে নিজে গোল করে এবং অন্যদের দিয়ে করায়ও।’

বেলজিয়ামের কেটেলারা পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন অনেকটা আচমকাই। রেড ডেভিলদের কথিত সোনালি প্রজন্মের শেষ দুই প্রতিনিধি কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুকেই দলের মূল তারকা হিসেবে গণ্য হচ্ছিল। কিন্তু ডি ব্রুইনার খেলায় আগের সেই ধার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁকে তো কোচ মাঠেই নামাননি। আর নিয়মিত গোল পেলেও অভিজ্ঞ লুকাকুকে সুপার সাব হিসেবে ব্যবহার করছেন কোচ। তাদের অনুপস্থিতিতে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের দায়িত্ব এসে পড়েছে কেটেলারার কাঁধে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি যেন সে দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী কেটেলারার দুই গোলেই সেদিন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল।

তবে ওই ম্যাচের আগে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না কেটেলারা। বেলজিয়ামের এই উঠতি প্রতিভা ইতালির ক্লাব আটালান্টায় খেলেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এ ফুটবলার ফরোয়ার্ডের পাশাপাশি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও পারদর্শী। তাঁর জন্যই বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড লাইনে বৈচিত্র্য এসেছে। ক্লাব ব্রুগের একাডেমি থেকে আসা এ ফুটবলারের জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০২০ সালে। ২০২২ বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি। তবে লুকাকু বা ব্রুইনার বদলি হিসেবে নামতেন। খুব বেশি সময় পেতেন না বলে নজর কাড়তে পারেননি। চলতি বিশ্বকাপে শুরুর একাদশেই তাঁকে খেলাচ্ছেন বেলজিয়াম কোচ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। আজ স্পেনের বিপক্ষেও তাঁর দিকেই চেয়ে থাকবে রেড ডেভিলরা।

আরও পড়ুন

×