কুষ্টিয়া
পুকুর খনন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম
সাজ্জাদ রানা,কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ | ০০:৫০
জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তর কুষ্টিয়ায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে পদে পদে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলো ভেস্তে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জেলার ৪টি উপজেলায় জলাশয় সংস্কারের প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব কাজে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলায় ৫টি জলাশয় ছাড়াও মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুরে একাধিক পুকুর রয়েছে।
কুষ্টিয়া সদরের গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের বামনগ্রামে সরকারের খাস জমির জলাশয়টি সংস্কারের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রকল্প নেওয়া হয়। মৎস্য অধিদপ্তর জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত) থেকে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ৩১ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ করতে বলা হয়। মৎস্যজীবীরা জানান, বামনগ্রামের এ প্রকল্পে কাজ হয়েছে মাত্র ১০ দিন। এর মাঝে কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মৎস্যজীবীরা কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেন। নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি। কোনো রকমে পাড় বেঁধে রাখা হয়েছে।
মৎস্যজীবী আনিস আলী বলেন, কাজে অনিয়ম হয়েছে। তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন। অফিসের লোক আসার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুকুরের গভীরতা কম, পাড় উঁচু করা হয়নি। মাছ চাষ করে লাভ করা যাবে না।
কাজ বাস্তবায়ন কমিটি ও মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের ভাষ্য, মৎস্য অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ ও ঠিকাদার দাবি করা রেজা আহমেদ নামের একজন এ কাজ করেছেন। নজরুল বলেন, 'কাজ শেষে ফাঁকা চেকে আমাদের স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। সোহেল ও রেজা চাপ দিয়ে এ কাজ করিয়ে নেন।'
শহরের কুমারগাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজার দাবি, প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন ও ঢাকায় ঘুষ দিয়ে অর্থ ছাড় করে আনতে হয়। উপজেলা, জেলা মৎস্য অফিস, খুলনা ও ঢাকায় টাকা দিতে হয়। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই প্রায় ৩৫ ভাগ টাকা খরচ হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রকৌশলী আলাদা টাকা নেন। তাই ঝুঁকি না নিয়ে প্রকল্পের সভাপতিদের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন।
কুষ্টিয়া অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ নিজেও ঠিকাদারি করেন। তিনি কুষ্টিয়া ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্বে আছেন। মাটি অপসারণের খননযন্ত্রও ভাড়া নিতে হয় সোহেলের মাধ্যমে। মেশিন ভাড়া বাবদও তিনি কমিশন পান।
একইভাবে কথিত ঠিকাদারের মাধ্যমে সদরের বালিয়াপাড়ার ৮ মাইল এলাকায় একাধিক জলাশয় ছাড়াও আইলচারা ইউনিয়নে একটি জলাশয় খনন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলশা পয়ারি জলাশয়ে খনন চলছে।
সরকারি খাস জমির জলাশয় সংস্কার করতে হলে জেলা প্রশাসকরে কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। তবে চলতি অর্থবছরে কোনো জলাশয় খনন করার জন্য তা দেওয়া হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সে সময়কার জেলা প্রশাসক জলাশয় খননের জন্য এনওসি দেন। সেই এনওসি নকল করে খাস জমির পুকুর খনন করছেন প্রকৌশলী সোহেল আহম্মেদ ও মৎস্য কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার জানামতে খাস জমির জলাশয় খননের জন্য এনওসি দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ৪টি জেলায় সোহেল একাই দায়িত্ব থাকায় তিনি দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। সোহেল আহম্মেদের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি এসব বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু পরে কল দিলে ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিতেন্দ্র নাথ বলেন, অর্থ বরাদ্দ আসে মৎস্যজীবী সমিতির অনুকূলে। তাঁরাই সব করেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। তাঁদের দায়িত্ব কাজ বুঝে নেওয়ার।
- বিষয় :
- পুকুর খনন
- জলাশয় সংস্কার
