যশোর জেনারেল হাসপাতাল
ধারণ ক্ষমতার ১৮ গুণ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
যশোর অফিস
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৩ | ১৬:২২ | আপডেট: ২১ মে ২০২৩ | ১৬:২২
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৮ গুণ রোগী ভর্তি হয়েছে। পাঁচ শয্যার বিপরীতে আজ রোববার দুপুরেও ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুও আছে। জেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে খরার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পুকুর বা বাড়ির আশপাশের জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এসব পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া বাসি-পচা খাবার খেয়েও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসাবাড়িতে। যাঁদের অবস্থা বেশি খারাপ, তাঁরা হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার দুপুরে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য শয্যা আছে পাঁচটি। অন্যদের আশপাশে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে অন্য ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতেও সেবা নিতে দেখা গেছে। রোগীদের বিছানাপত্রের আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ময়লা-আবর্জনা; ছড়াচ্ছিল দুর্গন্ধ।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার আরও একটি ওয়ার্ড চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানেও শয্যা না থাকায় রোগীর চাপে এলোমেলাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে স্যালাইনসহ কোনো ওষুধের সংকট নেই।
রোববার সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আড়াই বছর বয়সী সিয়ামকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা সেলিনা খাতুন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই বিছানা পাতেন তিনি।
একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন বাবাকে নিয়ে যাওয়া শহরের রেলগেট এলাকার বাসিন্দা তায়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়াই। তিন দিন পরও সুস্থ না হওয়ায় সদর হাসপাতালে এনেছি। শয্যা না পেলেও চিকিৎসায় তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে; চিকিৎসক এলে একসঙ্গে তিন রোগীর কথা শুনতে হচ্ছে। এতে নোংরা হয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ডের পরিবেশ। রোগীর সঙ্গে আশা সুস্থ স্বজনদেরও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের নার্স আছিয়া খাতুন বলেন, শতাধিক মানুষের ওয়ার্ডের জন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন। এ জন্য হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে অসুবিধা হচ্ছে। তারপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছি। কাউকে নিরাশ করা হচ্ছে না। সবাই চিকিৎসা পাচ্ছেন, সুস্থ হচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, বর্তমানে ৯২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। চিকিৎসক-নার্স সেবা দিতে হিমশিম খেলেও কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না।
ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সবার আগে নিরাপদ পানি পান করতে হবে। খাবার গ্রহণে সচেতন হতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বিশেষ করে রাস্তার খাবার, বাসি খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন খেতে হবে, যাতে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়। এর সঙ্গে ডাবের পানি, চিড়ার পানি, কাঁচাকলার তরকারি, থানকুনি পাতার রস খেতে হবে। শিশুদের বুকের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে।’
যশোরে ডায়রিয়ার রোগী বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। রোববার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে একযোগে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।