ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিয়ম না মেনে পুকুর খনন, ভাঙছে আঞ্চলিক সড়ক

নিয়ম না মেনে পুকুর খনন, ভাঙছে আঞ্চলিক সড়ক
×

তাড়াশে পুকুরের কারণে ওয়াশীন-কাস্তা সড়কের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে সমকাল

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক পাকা সড়ককে পুকুরের পাড় বানিয়ে মাছ চাষ করছে চাষিরা। এতে সড়ক ভেঙে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়া এসব সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৮০ থেকে ৯০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে চলাচলের জন্য ৩০২টি গ্রামীণ সড়কের দৈর্ঘ্য ৬৪৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২১২ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। আর বিট এইচবিবি সলিং সড়ক রয়েছে ৩৩ কিলোমিটার। পাশাপাশি ১৪ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক আছে। কাঁচা সড়ক রয়েছে প্রায় ৩৮৭ কিলোমিটার। এসব সড়কের পাশে রয়েছে শত শত পুকুর। ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব পুকুরের জন্য সড়ককে পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাধাইনগর ইউনিয়নের ওয়াশিন গ্রামের কলেজশিক্ষক সাব্বির আহমেদ জানান, যত্রতত্রভাবে পুকুরপাড় করায় তাঁর এলাকায় পাকা সড়কের ক্ষতি হচ্ছে। ১০ বছরের জন্য টেকসই করে সড়ক নির্মাণ করা হলেও পুকুরপাড়ের ভাঙনের কারণে চার-পাঁচ বছরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কুসুম্বি এলাকার শাহাদত হোসেন জানান, সড়ককে পুকুরপাড় বানানোয় চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিন ঘুরে সদর ইউনিয়নে অন্তত ২৫টি সড়কের পাশে পুকুর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তালম ইউনিয়নে পাঁচটি, বারুহাসে ১৫, সগুনায় পাঁচ, মাগুড়াবিনোদে ১৫, নওগাঁয় ২০, মাধাইনগরে ১০ ও দেশিগ্রাম ইউনিয়নে পাঁচটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাধাইনগর ইউনিয়নের ধাপ ওয়াশীন-কাস্তা আঞ্চলিক সড়কের মো. মনসুর আলীর বাড়ির পেছনে পাকা রাস্তা, তাড়াশ-বারুহাস সড়কের মিলনের বাড়ির পাশে, তাড়াশ-শ্মশান এলাকার পাকা রাস্তা ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়েছে। তাড়াশ-কাউরাইল আঞ্চলিক সড়কের একাধিক স্থানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল হকের ভাষ্য, আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের ১০ ফুটের মধ্যে কোনো পুকুরের পাড় রাখা যাবে না। উভয় পাশে এ পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে তবেই পাড় করতে হবে। সড়ককে পুকুরপাড় বানানো কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় যেসব সড়ক ঘেঁষে পুকুর খনন করা হয়েছে, সেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙন রোধে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্যালাসাইড তৈরি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা সড়ক রক্ষায় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও নজরদারি না থাকায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক পুকুর খনন করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, সড়ককে পুকুরের পাড় বানিয়ে ব্যবহারের কারণে ইউনিয়নে অনেক পাকা সড়ক ভেঙে পুকুরে চলে গেছে। অনেক এলাকায় ভাঙনের মুখে রয়েছে সড়ক। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সরকারি অর্থেরও অপচয় হচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এখনও তেমন কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×