ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার জেলায় করোনায় প্রথম মৃত্যু রামুতে

কক্সবাজার জেলায় করোনায় প্রথম মৃত্যু রামুতে
×

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ০৬:১২ | আপডেট: ০১ মে ২০২০ | ০৬:২৭

কক্সবাজারের রামুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। 

ছেনুয়ারা বেগম নামে ৬৫ বছর বয়সী ওই নারী কক্সবাজার জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। তিনি রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব কাউয়ারখোপ এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র স্ত্রী।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিন মোহাম্মদ আবদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সরকারি নির্দেশনা মতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাফন-কাফন কমিটির ব্যবস্থাপনায় রামুর কাউয়ারখোপ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে সড়কে ছেনুয়ারা বেগমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। পরে তাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

জানা যায় রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরওয়ার উদ্দিন, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রামু উপজেলার সুপারভাইজার সাইফুদ্দিন খালেদ, ছেলে জসিম উদ্দিন ভরসাসহ পরিবারের তিনজন অংশ নেন।

জানা গেছে, ছেনুয়ারা বেগম গত বুধবার জ্বর, সর্দি, কাশি ও বুক ব্যথা নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ছেনুয়ারা বেগমের রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পরে ছেনুয়ারা বেগমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি মারা যান।

আরএমও ডা. শাহিন মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, মৃত্যুর আগে ওই রোগীর হঠাৎ বুক ব্যথা বেড়ে গিয়েছিলো। সাধারণত ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে এই ধরণের মৃত্যু হতে পারে। তার ডায়বেটিসও ছিলো।

ছেনুয়ারা বেগমের ছেলে জসিম উদ্দিন ভরসা জানান, গত বুধবার তার মায়ের বুকে ব্যথা অনুভব করলে রামুতে ডা. মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার রিপোর্টে করোনা ভাইরাস পজিটিভ আসে। 

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, করোনা রোগী দাফন কমিটির বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ওই নারীর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পরপরই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ও তাদের পাশের ৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×