ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

তিস্তার ভাঙনে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন

তিস্তার ভাঙনে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন
×

ছবি: সমকাল

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ০৬:৫৬

থামেনি তিস্তার ভাঙন। অসময়ে অব্যাহত ভাঙনে উঠতি ফসলসহ বসত বাড়ি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। টানা ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। ভাঙনে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর পুটিমারী গ্রামে শতাধিক একর ফসলি জমি ও শতাধিক বসত বাড়ি নদীগভে বিলিন হয়ে গেছে।

তিস্তার ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজারও একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে করোনা ভাইরাস অন্যদিকে পবিত্র মাহে রমজান মাসে ভাঙনের মুখে পরে বেসামাল হয়ে গেছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। বিশেষ করে কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসে তিস্তা নদী এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে।

তিস্তার বুক জুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর। পলি জমে তিস্তার মূল নদী একাধিক শাখায় পরিণত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় ওইসব শাখা নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের কারণে উজানের ভাঙনে তিস্তার বালু চরের সবুজের সমারহ ও বসতবাড়ি ক্রমাগত বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে বেগুন, মরিচ, ভুট্টা, কুমড়ো, তোষাপাটসহ নানাবিধ ফসলের সমাহার দেখা দিয়েছে। কিন্তু সর্বনাশা তিস্তা সেসব ফসল ঘরে তুলতে দিচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় শ্রীপুর ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামের ফরমান আলীর সাথে। তিনি বলেন, তিস্তার ভাঙনে চরাঞ্চলবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ সময় নদী ভাঙার কথা নয়। অথচ দীর্ঘদিন থেকে দফায় দফায় নদী ভাঙন চলছে। যার কারণে শ্রীপুর ইউনিয়নের প্রায় হাজারও বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চরের মানুষ তরকারির আবাদ করে ৬ মাস সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। তিনি আরও বলেন, তার এক বিঘা জমির তোষাপাট ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক বিঘা জমির বেগুন ক্ষেতের প্রায় বেশিভাগ নদীতে বিলীন হওয়ার পথে।

শ্রীপুর  ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, নদী ড্রেজিং এবং খনন করা ছাড়া নদীভাঙন রোধ করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে হলে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত। জেলা পানি উন্নয়ন বোডের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধ একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। তবে নদী সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ দিকে গত বছর ২ মে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তিস্তা নদীর বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, তিস্তা নদীকে রক্ষা এবং ভাঙন রোধ করতে হলে নদীর গতিপথ একমুখি করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

অপরদিকে গত বছর ২০ মার্চ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি কুড়িগ্রাম হতে নৌ-পথে স্প্রিড বোর্ডে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কাপাসিয়া ইউনিয়নের কছিম বাজার খেয়াঘাটে স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে  নদী ভাঙনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×