টেকনাফে মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত কৃষককে গুলি করে হত্যা
প্রতীকী ছবি
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ০৯:৪৩
কক্সবাজারের টেকনাফে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে অপহৃত আক্তার উল্লাহ (২৪) নামে এক কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। আরও দুই জন কৃষক তাদের কাছে জিম্মি রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের উনছিপ্রাং পুটিবনিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে স্থানীয়দের সহতায় ওই কৃষকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কৃষক মিনাবাজার মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে।
নিহতের পরিবার বলছে, অপহৃত আক্তার উল্লাহকে ছেড়ে দিতে পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাতরা। তারা ডাকাত আবদুল হাকিমের লোকজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমান বলেন, ‘গত তিনদিন আগে রোহিঙ্গা ডাকাতরা ৬ কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার মধ্যে তিন জনকে ছেড়ে দেয়। তাদের তথ্য মতে, বুধবার পাহাড়ে অপহৃত ওই তিন জনকে উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ডাকাতদের পাহাড়ে বেশ কিছু আস্তানা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার ভোরে অপহৃত আক্তার উল্লাহর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। লাশটি কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতদের ধরতে পাহাড়ে পুলিশের অভিযান চলছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, গত ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে মিনাবাজার শামসু হ্যাডম্যানের ঘোনায় কৃষকের ধানক্ষেতে কাজ করা অবস্থায় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা ডাকাত ৬ জন কৃষককে অপহরণ করে। অপহৃতরা হলেন, কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই ছেলে জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, মোহাম্মদ শাহেদ (২৫), আকতার উল্লাহ (২৪) ও মোহাম্মদ ইদ্রিস। এর মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান কৃষক আবুল হাশেমসহ তার দুই ছেলে। বাকি তিনজনদের তাদের কাছে জিম্মি থাকে। পরে অপহৃত শাহেদের মোবাইল থেকে ওই কৃষকের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা না দিলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় ডাকাতরা। সর্বশেষ মুক্তিপন না পেয়ে শুক্রবার ভোরে ওই কৃষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি এলাকায় রেখে যায়। তবে মৃতদেহের পাশ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে বাকি দুই কৃষককে জীবিত চাইলে বিশাল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে তারা।
হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে স্থানীয় এক কৃষকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গেছে। গত তিন আগে নিহত কৃষকসহ ৬ জনকে অপহরণ করেছিল রোহিঙ্গা ডাকাতরা। তার মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায় তিন জন। বাকি তিনজনের মধ্যে এক জনকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় অপহৃত ওই দুই পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছে।’
এদিকে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম ও জকির গ্রুপদের ধরতে হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছিল র্যাব। তবুও থেমে নেই তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- টেকনাফ
- গুলি করে হত্যা
- মুক্তিপণ