ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবায় ২০ বছর পার চিত্রশিল্পী পান্নার

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবায় ২০ বছর পার চিত্রশিল্পী পান্নার
×

শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন পান্না -সমকাল

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ০৯:৪৪ | আপডেট: ০১ মে ২০২০ | ১২:৪২

রাজশাহীর চারুকলা কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে ৩০ বছর আগে মাগুরার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন শামসুজ্জামান পান্না। এরপর চিত্রকলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও পরে একটি স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতার এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজে। 

এরপর ২০ বছর ধরে গ্রামের হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা বেতনে ছবি আঁকা শিখিয়ে আসছিলেন চিত্রশিল্পী শামসুজ্জামান পান্না। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ছবি আঁকা শেখানো বাদ দিয়ে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক শিশুর মুখে নিয়মিত তুলে দিচ্ছেন খাবার। শুধু খাবার নয়, এ সকল শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। 

চিত্রশিল্পী পান্নাকে 'সাদা মনের মানুষ' আখ্যায়িত করে এই মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানান, পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুজ্জামান পান্নার শিশুদের প্রতি অগাধ ভালবাসা। এই ভালবাসা থেকে তিনি গ্রামে-গ্রামে ঘুরে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে ছবি আঁকা শিখিয়ে আসছেন। ছবি আকার মাধ্যমে তিনি শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশত্ববোধ জাগ্রত করে চলেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাস তার সেই কাজে বাধ সাধলেও তিনি পিছু হটেননি। ছবি আঁকা শেখানো বাদ দিয়ে তিনি গত ১৫ দিন ধরে সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডি, করচাডাঙ্গা পাড়াসহ আশপাশের ৪- ৫টি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শতাধিক শিশুর মুখে তুলে দিচ্ছেন ভাত, খিচুড়ি, মাংস, ডিমসহ নিজের হাতে রান্না করা দুপুরের খাবার।

ইসহাক ও লিটু বিশ্বাস নামে দুই গ্রামবাসী বলেন, পান্ন দীর্ঘদিন ধরে তাদের এলাকার শাতাধিক শিশুকে বিনা বেতনে ছবি আঁকা শিখিয়ে আসছেন। করোনা শুরু হওয়ায় এবার তিনি নিয়মিত ওই শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। এ খাবার না পেলে করোনা পরিস্থিতি অধিকাংশ শ্রমজীবী, দিনমজুর, ভ্যানচাল হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের হয়তো দিন কাটতো অভুক্ত অবস্থায়।

চাঁদনী ও সোহান নামে দুই শিশু বলে, পান্না স্যার ছবি আঁকা শেখানোর মাধ্যমে আমাদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন। যে কারণে তিনি আমাদের আদর করে বন্ধু বলে ডাকেন। করোনার সময়ে যখন আমাদের বাবা, চাচারা বেকার হয়ে পড়েছেন। যখন আমাদের খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছিলো, এ সময় তিনি আমাদের মুখে নিয়মিত খাবার তুলে দিয়ে সত্যিকারের বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন।

শামছুজ্জামান পান্না জানান, তিনি যে শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, তারা খুবই দরিদ্র পরিবারের। করোনার কারণে তাদের অভিভাবকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাই তারা যেন অভুক্ত না থাকে, এ জন্য ১৫ দিন ধরে দুপুরে রান্না করা খাবার সেসব শিশুদের বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রথমে তিনি নিজ অর্থে এ কাজ শুরু করলেও পরে তার বন্ধুরা তাকে সহায়তা করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এ অসহায় পরিবারের সদস্যদের ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ কাজ অব্যাহত রাখবেন।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা আবু সুফিয়ান বলেন, শামছুজ্জামান পান্না একজন সাদা মনের আলোকিত মানুষ। তার ইতিবাচক কর্মকাণ্ড মানুষকে মানবিকতার পথ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান করোনাভাইরাসের সময়ে তিনি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

এ সময় পান্নার এই মহতি উদ্যোগে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।

আরও পড়ুন

×