ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

স্বামীকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা সেই নারীও করোনা পজিটিভ

স্বামীকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা সেই নারীও করোনা পজিটিভ
×

প্রতীকী ছবি

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ১০:১৫

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে স্বামীকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকার সেই নারীও (৩০) এখন করোনা পজিটিভ। 

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন শুক্রবার রাত ৯টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে বগুড়ায় নারী ও শিশুসহ ১৯ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলেন।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বগুড়ায় ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বগুড়ার ১২৪টি এবং বাদাকি ৬৪টির মধ্যে ৬৩টি জয়পুরহাটের এবং একটি সিরাজগঞ্জের। এ সব নুমনার মধ্যে শুধু বগুড়ার একটিই পজিটিভি এসেছে বাকিগুলো নেগেটিভ।

তবে স্বামীকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা সেই নারী পেশায় নার্স হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তার কর্মস্থল বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কেননা স্বামীর মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ওই নারী এরই মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদের সংস্পর্শে গেছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি জানার পর শজিমেক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নিয়ে চারজন নার্স এবং একজন ক্লিনারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছেন। এর আগে করোনায় আক্রান্ত শাহ আল নামে রংপুরের এক ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়ার জন্য এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ ১৫ জনকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ওই নারীর স্বামীকে গত ২৮ এপ্রিল বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে করোনা পজিটিভ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহামা জানিয়েছিলেন, ঢাকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ব্যক্তি গত ১০ এপ্রিল বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকায় তার ভাড়া বাড়িতে আসেন। জ্বর এবং কাশি থাকায় পরিবারের চাপেই গত ২৬ এপ্রিল তিনি নমুনা দেন। তবে ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যার একটু আগে তাকে ফোন করে করোনা পজিটিভ বলে জানানোর পর পরই তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। যে কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা তিনি যে বাসায় থাকেন সেটি লকডাউন করা যাচ্ছিল না।

তবে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিরা খোঁজাখুঁজি শেষে প্রায় ২৪ ঘন্টা পর ২৯ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফুলতলা এলাকায় ওই ব্যক্তির সেই ভাড়া বাসার সন্ধান পান। কিন্তু স্ত্রীকে পাওয়া গেলেও ওই ব্যক্তিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। অবশ্য তৎক্ষণাৎ সেই বাসাসহ আশাপাশের আরও ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ সদর উপজেলার শেখেরকোলায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পলাতক ওই ব্যক্তির সন্ধান পান এবং তাকেও সেখানে লকডাউন করা হয়।

শেখেরকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ডালিম জানান, পালিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন যে- করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর শুনে পেশায় নার্স তার স্ত্রী তার সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। যে কারণে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গ্রামে চলে আসেন।

স্বামীর সংস্পর্শে করোনায় আক্রান্ত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের নার্সের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সমকালকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার কোন শারীরিক সমস্যা নেই। বাসায় শুধু আমি আর কাজের বুয়া রয়েছি। আমরা আলাদা কক্ষে রয়েছি। আর আমার ১২ বছর বয়সী ছেলে ওর বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতেই লকডাউনে আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যে বিল্ডিংয়ে বসবাস করি সেখানে অনেকগুলো পরিবারের অন্তত ৪৫জন ব্যক্তি থাকে। তাদের সবারই নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।’

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত ওই নার্সের সংস্পর্শে যাওয়া ৫ জনকে বৃহস্পতিবার হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর পাশাপাশি ২ চিকিৎসকেও অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শনিবার সবারই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠাবো।’

আরও পড়ুন

×