গাছে বেঁধে পেটানো হলো কিশোরকে
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ১০:২৪
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মো. মিনহাজ (১৫) নামে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ কেরানী পাড়ার মো. ছইদুল ইসলামের ছেলে মো. মিনহাজ (১৫) দিনাজপুর জেলা সদরে অবস্থিত ফরিদপুর গোরস্তান মাদরাসার নাজেরা ক্লাসের ছাত্র। করোনা মহামারির কারণে মাদরাসা বন্ধ থাকায় সে বাড়িতে অবস্থানকালে প্রতিবেশী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মোছা. রমেনা বেগম, কন্যা পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোছা. আফরোজা খাতুন (১০) এবং ছেলে একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুহান ইসলামকে (৮) আরবী শিক্ষাদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় শিক্ষাদান কালে আবু সিদ্দিকের পরিবার মো. মিনহাজের বিরুদ্ধে তার মেয়ের শ্লীলতাহানীর অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে। এ সময় পালিয়ে যায় মিনহাজ। আত্মগোপনের থাকা মিনহাজকে দুপুর ১টায় বাড়ি হতে ৩ কিলোমিটার দুরে তার নানার বাড়ি নাটুয়া পাড়া এলাকা হতে ধরে এনে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বাড়ির সামনের সুপারি গাছে বেঁধে মারধোর করেন। এ সময় মিনহাজকে উদ্ধার করতে আসা পরিবারের লোকজনের উপর হামলা চালানো হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন মিনহাজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত মিনহাজ বলে, পড়ানোর সময় মোছা. আফরোজা খাতুন ভুল করলে তাকে দুটি মার দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে এবং আমার সাথে তর্কে জড়িয়ে যায়। পরে সে কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার মাকে গিয়ে বলার পর পরিবাবের লোকজন এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমি পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করি। পরে দুপুরে আমাকে আবার ধরে নিয়ে এসে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করে।
অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মোছা. রমেনা বেগম বলেন, পড়ার এক পর্যায়ে আমি বাড়ির বাইরে যাই। এ সময় মিনহাজ আমার মেয়েকে আরবি বই ছুঁয়ে শপথ করিয়ে না বলার শর্তে টিউবয়েল পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে সে মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়ের চিৎকারে আমরা ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করে শাসন করেছি।
তাকে পুলিশে না দিয়ে নিজে শাসন করা ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
মিহাজের বাবা মো. ছইদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি বৃহস্পতিবার বীরগঞ্জ থানায় হবিবর রহমানের ছেলে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৫) তার স্ত্রী মোছা. রমেনা বেগম (৪০) এবং মো. রমজান আলীর ছেলে ও আবু বক্কর সিদ্দিকের শ্যালক মো. আশরাফুল ইসলামকে (২৫) আসামি করে মামলা দায়ের করেছি। এখন আসামি পরিবারের লোকজন আমার ছেলে এবং আমার পরিবারসহ যারা ভিডিও করেছে তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমি পেশায় কৃষি শ্রমিক। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে জীবন চলে। মা মরা ছেলেকে নির্মমভাবে গাছে বেঁধে মেরেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বীরগঞ্জ থানার এসআই আলন চন্দ্র রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. আবু বক্কর (৪৫) ও মোঃ আশরাফুল ইসলাম (২৫) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওসি মো. আব্দুল মতিন প্রধান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। নির্যাতনে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।