ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ওএমএসে চাল-আটা বিক্রি বন্ধ নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট

ওএমএসে চাল-আটা বিক্রি বন্ধ নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট
×

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৮ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জ শহরে প্রতিদিন ৭ টন চাল ও ৭ টন আটা ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় খোলাবাজারে বিক্রি করা হতো। ডিলার নিয়োগে জটিলতায় সেপ্টেম্বর থেকে শহরে ওএমএস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে সুবিধাভোগী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বিপদে পড়েছে।

ওএমএস কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ পরিবার পাঁচ কেজি করে চাল ও সমপরিমাণ আটা কিনতে পারত। একজন ক্রেতা মাসে ছয়বার সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও ২৪ টাকা দরে আটা কেনার সুযোগ পেতেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে অন্তত ৮ হাজার ৪শ পরিবার মাসে স্বল্পমূল্যে চাল-আটা কেনার সুযোগ পেতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ১৫ জন ওএমএস ডিলার ছিলেন। তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ডিলারশিপের ১৬৭টি আবেদনপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে ১৬৪ জন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু নানা কারণে এখনও নতুন ডিলার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ না হলে দুই মাস খাদ্য অধিদপ্তর খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি করতে পারে। এ কারণে জেলা খাদ্য বিভাগ গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রি করেছে। এরপর গত মাস থেকে বিক্রি বন্ধ করে দেয় খাদ্য বিভাগ। 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ শহরে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রির অনুমোদন পেতে তারা গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অনুমোদন পেলে আবার তাদের তত্ত্বাবধানে ওএমএসের পণ্য বিক্রি শুরু করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি। 
গোপালগঞ্জ শহরের ডিলার নিয়োগে জটিলতার কারণ জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, ডিলার নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক জেলা প্রশাসক ও সদস্য সচিব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তিনি এ কমিটির সদস্য নন। এ কারণে ডিলার নিয়োগে জটিলতা বিষয়ে তাঁর জানা নেই। 

শহরের বড়বাজারের দিনমজুর আরাফাত হোসেন বলেন, একজনের আয়ে চারজনের সংসার চলে। ওএমএস থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে আটা ও ২৪ টাকা মূল্যে চাল কিনতোম। প্রতি মাসে ছয়বার চাল-আটা কিনে সংসার চালাতাম। এখন বাজার থেকে ৫৫ টাকা দরে চাল ও ৫০ টাকা দরে আটা কিনতে হচ্ছে। এতে চাল-আটার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত ওএমএস চালুর দাবি জানান তিনি।  

রিকশাচালক ফয়সাল মিয়া জানান, তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। আগে এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারতেন তিনি। গত ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের পর শহরের লোকজন কমে গেছে। আয় নেমেছে অর্ধেকে। এর মধ্যে ওএমএস বন্ধ। এখন আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সংসার চালাতে পারছেন না। ক্রমেই ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ শহরের বড়বাজারের চাল ব্যবসায়ী অনুপ সাহা বলেন, দেড় মাস আগে থেকে বাজারে দেশি চালের দাম বাড়তে শুরু করে। পরে এলসির চাল আসার পর বাজার স্থিতিশীল। তারপরও মোটা চাল ৫৫ টাকার নিচে নেই। আর আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। ওএমএস চালু থাকলে আটা ও মোটা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধা হয়।

গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব অনিক পাল অন্তু জানান, তিনি এ জেলায় গত মাসে যোগদান করেছেন। এর আগে নওগাঁ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। সেখানে ডিলার নিয়োগ করে ১ জুলাই থেকে ওএমএস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের প্রায় সব পৌর এলাকায় ওএমএস ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এ জেলায়ও দ্রুত ওএমএস ডিলার নিয়োগ করা হবে। 
 

আরও পড়ুন

×