শাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা, স্মারকলিপি প্রার্থীদের
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:২৬
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নির্ধারিত ২০ জানুয়ারিতে করার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
বুধবার বিকেলে শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা ওই স্মারকলিপি দেন। তবে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেননি অনেক প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকারের কথা বলা হলে প্রার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ‘বিকল্প’ পথ হিসেবে স্মারকলিপি দেন। ফলে শাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে স্মারকলিপির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে শাকসু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কী জানানো হবে– সে বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় শাবি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও প্রার্থীরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে স্বাক্ষরকারী অনেকে তাদের স্বাক্ষর প্রত্যাহারও করে নিতে পারেন বলে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।
প্রার্থীরা তাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি, গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা মনে করি, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শাকসু নির্বাচনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না।
এদিকে ছাত্র সংসদ ও হল নির্বাচনে ৫৭ প্রার্থীর মধ্যে স্মারকলিপিতে সাধারণ শিক্ষার্থী প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহুয়ী শারদ, শিবির প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলামসহ অধিকাংশ হলের ভিপি, জিএস ও বিভিন্ন পদের অধিকাংশ প্রার্থী স্বাক্ষর করেছেন। তবে বাকি রয়েছেন ৮-১০ প্রার্থী।
গত সোমবার জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন না করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারির পর শাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রদল, শিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থী প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাতেও তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিম শিক্ষার্থীদের জানান, তিনটি বিষয়ে প্রার্থীরা অঙ্গীকার করলে ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের অনুমতি দিতে পারে কমিশন। সেই তিনটি বিষয় হচ্ছে– শাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের সম্পৃক্ততা থাকবে না, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব ফেলবে না এবং শাকসু নির্বাচনকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু এসব বিষয়ে অঙ্গীকার করতে প্রার্থীরা অস্বীকার করেন। রাতে বৈঠকের পর অঙ্গীকারের পরিবর্তে প্রার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার সীদ্ধান্ত নেন। বুধবার দেওয়া স্মারকলিপিতে ওই তিনটি শর্তের বিষয়ে সমস্যা হবে না উল্লেখ করলেও অঙ্গীকার দিতে রাজি নন শিক্ষার্থীরা।
