শাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিবির সমর্থিত প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা
নির্বাচন আয়োজনে ইসির প্রজ্ঞাপন দাবি
ফাইল ছবি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০১:১৩
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে ২৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির ও জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নতুন করে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানান প্যানেলের প্রার্থীরা।
ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ইশতেহার ঘোষণাকালে প্যানেলের অন্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে ভিপি প্রার্থী শিশির বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে আমরা (প্রার্থীরা) লিখিতভাবে অবস্থান জানিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, শাকসু নির্বাচন আয়োজনে আর কোনো বাধা নেই। যেহেতু প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে, আমরা আশঙ্কামুক্ত থাকছি না।
তিনি বলেন, বুধবার বায়রা নামের একটি সংগঠনের নির্বাচন আয়োজনে নতুন করে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আমরাও চাই, শাকসু নির্বাচনকে আশঙ্কামুক্ত করতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হোক।
ইশতেহারের ২৮ দফার মধ্যে রয়েছে– জুলাই কর্নার স্থাপন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতকরণ, একাডেমিক ক্যালেন্ডারে শাকসু অন্তর্ভুক্ত করা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সংরক্ষণ, আজাদী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা ইত্যাদি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন না করতে গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারির পর শাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম শিক্ষার্থীদের জানান, নির্বাচনের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না– প্রার্থীরা এমন অঙ্গীকার দিলে নির্বাচন কমিশন অনুমতির বিষয়ে ভাববে। কিন্তু এসব বিষয়ে তারা অঙ্গীকার করতে অস্বীকার করেছে।
