এক রাত পর শিশুসহ কারামুক্ত সেই মহিলা লীগ নেত্রী
শিল্পী বেগম
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় মাসের সন্তানসহ গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম কারামুক্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ওই নেত্রীকে কারাগার থেকে নিতে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাফটকে অপেক্ষা করেন।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাসের সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন। তবে শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তাঁর এক মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সহপাঠীরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের আক্রমণ চালায়।
পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১২০ থেকে ১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালপত্র লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
- বিষয় :
- মহিলা আওয়ামী লীগ
