ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে কমিটি ঘোষণার পর ২২ এনসিপি নেতার পদত্যাগ

চট্টগ্রামে কমিটি ঘোষণার পর ২২ এনসিপি নেতার পদত্যাগ
×

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১৮:৫৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ১৯:১৪

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলে চরম অসন্তোষ ও নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণার পর সেদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে চার নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২২ জন নেতার পদত্যাগের কথা জানানো হয়েছে। 

এর আগে এনসিপি নেতা মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট দলটির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন। 

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি।

এরপর রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষিত কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যায়িত করে পদত্যাগ করেন চার নেতা। তারা হলেন— কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। 

সংবাদ সম্মেলনে রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, ‘নবগঠিত কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। আবার এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে আমাদের অনেকেই চেনেন না, জানেন না। তাই আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ সময় তিনি দলের দুই-তিনজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজাউদ্দিন চট্টগ্রামে মহানগর কমিটি পরিচালনা করছেন। আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু তিনি আমাদের অবদানের বিষয়টি না দেখে নিজের কৃতিত্ব নিচ্ছেন। আবার দলের নীতি অগ্রাহ্য করেছেন নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। আবার মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক করা হলেও তার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। 

এ ব্যাপারে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘এনসিপিকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক বেশি প্রত্যাশা রয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই সব দিক বিবেচনা করা হয়েছে। এরপরও হয়তো কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। আবার অনেকে হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ পাননি। এ কারণে তাদের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।’ 

তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত রয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অবশ্য বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এনসিপির নীতি অনুসারে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ হয়তো ভুল বুঝছেন। আশা করছি, যারা পদত্যাগের কথা বলছেন, তারা ফিরে আসবেন।’

চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক কমিটি গঠন করার মধ্য দিয়ে গত বছরের ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে এনসিপির আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয় মীর আরশাদুল হককে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। আরশাদুল হক ছাড়াও অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী সমন্বয়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে দুজন বিএনপিতে যোগ দেন। 

এদিকে নব কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জোবাইর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ ইকবাল চৌধুরী ও আশরাফুল হক টিপু। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাফসান জানি রিয়াজ, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয়। নবগঠিত এই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাফর আহমদ চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন ওপেল। এছাড়া, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিজাম উদ্দিন এবং হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুক।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ এবং নির্বাহী সদস্য হিসেবে সর্বমোট ১৬৮ জন নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×