ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ

ডায়ালাইসিসের সাত যন্ত্র বিকল দিনের পর দিন অপেক্ষা

মোট যন্ত্র আছে ২৫টি

ডায়ালাইসিসের সাত যন্ত্র বিকল দিনের পর দিন অপেক্ষা
×

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট -সমকাল

এস এম কাউসার, বগুড়া

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে ভোরে রওনা দিয়েছিলেন আমেনা খাতুন। কিডনি রোগে আক্রান্ত ৪৫ বছর বয়সী এই নারী আশা করেছিলেন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এসে অন্তত ডায়ালাইসিসের একটি সিরিয়াল পাবেন। বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষার পর তাঁকে জানানো হয়, দুই দিন পরে এসে ডায়ালাইসিস করাতে হবে। 
অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েন তাঁর স্বামী মাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে স্ত্রীর কিডনির চিকিৎসা চলছে। প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। সরকারি হাসপাতালে এসেও যদি দুই দিন অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে রোগী নিয়ে কোথায় যাব?’

শুধু আমেনা নন, প্রতিদিন বগুড়া ছাড়াও জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নওগাঁ জেলার শতাধিক কিডনি রোগী ছুটে আসছেন শজিমেক হাসপাতালে। কিন্তু সীমিত মেশিন ও শয্যার কারণে চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বেলতলা গ্রামের গোকুল চন্দ্র জানান, সপ্তাহে তিন দিন তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। সিরাজগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা না থাকায় বগুড়ায় আসেন। সাত দিন ঘুরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আক্ষেপ করে গোকুল চন্দ্র বলেন, ‘এতদিন কী কষ্টে ছিলাম, তা বলে বোঝাতে পারব না।’ 
বগুড়া শহরের গণ্ডগ্রাম এলাকার ইকবাল হোসেন তিন মাস ধরে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি থেকে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। সপ্তাহে তিন দিন তাঁর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ‘বাইরে চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই। এখানে যতদিন সুযোগ পাব, ততদিন বাঁচার চেষ্টা করব।’ 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রতিদিন বগুড়া জেলা ছাড়াও আরও ৪ জেলা থেকে ২৫-৩০ জন কিডনি রোগী আসেন ডায়ালাইসিস করানোর জন্য। যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটের কারণে ১৫-১৬ জনের বেশি ভর্তি করা যাচ্ছে না। শয্যা সংকটও প্রবল। প্রতিদিন যে কয়জন রিলিজ দেওয়া হয় তার অনুকূলে সে পরিমাণ রোগী ভর্তি করা হয়। 
সূত্র আরও জানায়, শজিমেক হাসপাতালে প্রতিবার ডায়ালাইসিস করাতে সরকারি ফি লাগে মাত্র ৪৫০ টাকা। অথচ বেসরকারি ক্লিনিকে একই চিকিৎসার জন্য খরচ হয় অন্তত তিন হাজার টাকা। ফলে দরিদ্র রোগীদের ভরসা হয়ে উঠেছে সরকারি এই হাসপাতাল। তবে হাসপাতালের ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে বর্তমানে সাতটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। শয্যা রয়েছে ৬৮টি, অথচ ভর্তি অপেক্ষায় থাকেন শতাধিক রোগী। বর্তমানে ভর্তি থাকা ৯৩ জন রোগীর মধ্যে ৩২ জনের সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়।

এ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার সাহা বলেন, ‘রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ৫০টি নতুন মেশিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। শুধু মেশিন দিলেই হবে না, প্রয়োজন জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও। বর্তমানে নষ্ট সাতটি মেশিন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মেশিন সব সময় সচল রাখা কঠিন।’
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শজিমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের সমস্যা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত নতুন মেশিন ও জনবল বরাদ্দ দেওয়া হবে। তখন কাউকে সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হবে না। 
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ বলেন, ‘বগুড়াকে কেন্দ্র করে আশপাশের পাঁচ জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। গরিব রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত ৫০টি মেশিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আরও অনেক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’
 

আরও পড়ুন

×