ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কারখানা স্থায়ী বন্ধ, সংকটে ১৮০০ শ্রমিক

কারখানা স্থায়ী বন্ধ, সংকটে  ১৮০০ শ্রমিক
×

গাজীপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এক হাজার ৮০০ শ্রমিক। উপার্জনে পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো ও পাওনা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শ্রমিকদের।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, এক সপ্তাহ আগেই কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে গত ১৬ জুন। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক হয় গত রোববার। সেখানে তারা বন্ধের বিষয়ে সম্মতি দেয় বলে জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে মহানগরের বোর্ডবাজার বাদে কলমেশ্বর এলাকায় গড়ে ওঠা ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড কারখানার সামনে গিয়ে কথা হয় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। দীর্ঘদিন দিন ওই কারখানায় চাকরি করেছেন। বন্ধ ঘোষণার পরও তিনি গতকাল কারখানার সামনে এসেছিলেন। কারখানার প্রতি মায়া তাঁকে সেখানে নিয়ে আসে বলে জানান। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, চাকরি তো চলে গেল। এখন কীভাবে আরেকটি চাকরি জোগাড় করব জানি না। আমার বেতনের টাকায় দুই ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চলে। অসুস্থ বাবার ওষুধ কিনতে হয়। বৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা দিতে হয়। 
আকলিমা আক্তার নামে এক শ্রমিক জানান, শুনেছি আগামী ২৭ জুলাই আমাদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। কারখানাই তো বন্ধ। কার কাছে টাকা চাইব? কে দেবে আমাদের পাওনা! শুধু আলমগীর আর আকলিমা নয়, বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই অনেক শ্রমিক কারখানার সামনে আসেন প্রতিদিন। 

গত রোববার সকালে কারখানা বন্ধের পর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন। এতে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদও এতে অংশ নেন। 
শিল্প পুলিশ জানায়, কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১১টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের অবশিষ্ট ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব বকেয়া বেতনও দেওয়া হবে। চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ পে হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×