সড়কের কাজ বন্ধ ছয় মাস, ভোগান্তি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন সমকাল
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেগুনহাটি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকায় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি এ সড়কের এক পাশে বৃষ্টির পানি আটকে তিন গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা।
এসব ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে এবং সড়কটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুদ্দিন খন্দকার বলেন, গাজীপুর-রাণীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত বেগুনহাটি-খিলগাঁও সড়কটি প্রায় শত বছরের পুরোনো। এ সড়ক দিয়ে বেগুনহাটি, নাশেরা, খিলগাঁও, বাড়ৈগাঁও ও গোসাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা এবং বেগুনহাটি ফাজিল মাদ্রাসা, বেগুনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেগুনহাটি নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যাতায়াত করে থাকেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন ১২ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক প্রায় এক বছর আগে পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। স্থানীয় দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হন। ছয় মাস আগে তিনি সড়কের মাটি খনন করে নির্মাণকাজ শুরু করেন। একই সময়ে এ সড়কের শুরুর দিকে বেগুনহাটি বিলের উত্তরপাশে সড়কের একটি কালভার্টের নিচের মুখ-সংলগ্ন প্রায় এক বিঘা ফসলী জমি কিনে নিয়ে তাজুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক মাটি ফেলে ভরাট করেন। পরে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ভারী বর্ষণে রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়। পাশাপাশি এ সড়ক দিয়ে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প সড়কে প্রায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে জনসাধারণ চলাচল ও মালপত্র পরিবহন করছেন।
এ বিষয়ে ওই সড়কের ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা বলেন, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই কালভার্টের কাছাকাছি দূরত্বে একই মালিকের জমিতে একটি কালভার্ট নির্মাণের স্থান নির্ধারিত হয়। কিন্তু আশপাশে জমি নেই এমন তিনজন নারী এবং একজন পুরুষ মাটি খননের এক্সক্যাভেটরের সামনে এসে শুয়ে পড়লে তিনি কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, ঠিকাদার প্রথম থেকেই কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন। সময়মতো শুরু করলে বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। দ্রুত
সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালভার্টের জটিলতা নিরসনের জন্য তিনি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান।
- বিষয় :
- সড়ক
