ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

এইচএসসির ফল বিপর্যয়

শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি, কমিটির বিরোধে পাসের হার শূন্য

তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ

শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি, কমিটির বিরোধে পাসের হার শূন্য
×
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:১৯

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪৬ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। অথচ এমপিওভুক্ত এই কলেজটির ৩৭ শিক্ষক-কর্মচারীর পেছনে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে এক কোটি ৩৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়। এই ফল বিপর্যয়ের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কলেজ-সংলগ্ন সোনাদহ বাজারে গতকাল রোববার দুপুরে মানববন্ধন ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

মানববন্ধনে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল, এলাকাবাসী সিরাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, দুলাল হোসেন, তারাজুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কলেজটির শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান না করে সব সময় অভ্যন্তরীণ দলাদলি ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নামমাত্র হাজিরা দিয়ে শিক্ষকরা বাজারে বসে আড্ডা দেন এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অভিভাবকদের নানাভাবে লাঞ্ছনা করেন।

 ১৯৯৬ সালে এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই এমপিওভুক্ত কলেজে ৩৭ শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ফলের দেখা মেলেনি। এই ফলে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সন্তানদের ভর্তি বাতিল করে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ মনে করেন, ম্যানেজিং কমিটির বিরোধ ও শিক্ষকদের গ্রুপিংই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। তবে বর্তমান অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম কামাল দাবি করেন, স্থানীয় দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব ক্লাসরুমে পড়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারেননি।

তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ছাড়াও বগুড়া জেলায় আরও চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এই চারটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এর মধ্যে বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, ধুনটের গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ থেকে দুজন এবং দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকে দুই শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া কাহালুর আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন।

অর্থ সংকট ও এমপিওভুক্ত না হওয়ার দোহাই দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নানা অজুহাত দেখিয়েছেন। গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, ‘শিক্ষকদের পেটে ভাত নেই। তারা কী খেয়ে ক্লাস নেবেন? প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে অবশ্যই শিক্ষার্থীরা পাস করত।’ অন্যদিকে, কাহালুর আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌস আলম জানান, তাঁর কলেজে গত তিন বছর ধরেই এমন ফল আসছে। কারণ, সাত শিক্ষক কোনো বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নিয়মিত কলেজে আসেন না। 

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এক-দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত ক্লাসের অগ্রগতি ভিডিওকলের মাধ্যমে মনিটর করা হবে।

আরও পড়ুন

×