ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

যশোর জেনারেল হাসপাতাল

ছয় মাস ধরে বেতন নেই ১৭ কর্মচারীর

ছয় মাস ধরে বেতন নেই ১৭ কর্মচারীর
×

ফাইল ছবি

যশোর অফিস

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | ০৮:৩০

গত ছয় মাস ধরে বিনা বেতনে কাজ করছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারী। বেতন তহবিলে অর্থ থাকলেও পরিশোধ করা হচ্ছে না বকেয়া। বরং তাদের চাপ দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছেন- এমন অঙ্গীকারনামা লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের দাবি, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে এক বছরের চুক্তিতে হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় কাজে যোগ দেন এই ১৭ কর্মচারী। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের নিয়োগের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। হাসপাতালে কাজ করতে হলে তাদের স্বেচ্ছায় কাজ করছেন মর্মে লিখিত দিতেই হবে। তা না হলে তাদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী ইমদাদ হোসেন অভিযোগ করেন, এটা ঠিক, তারা এক বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদের গত জুলাই থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। ছয় মাস ধরে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে কাজ অব্যাহত রেখেছেন তারা। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোনো টাকাই দেওয়া হচ্ছে না।

আরেক কর্মী আমেনা আক্তার রিয়া জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল। কর্তৃপক্ষ তখন আশ্বাস দিয়েছিল, নতুন ঠিকাদার কাজ পেলে তাদের সেখানে যোগদান করিয়ে বেতন দেওয়া হবে।

এক বছরের চুক্তিতে যোগদানকারী এসব কর্মচারীর প্রথম সাত মাস মাসিক ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা এবং বাকি পাঁচ মাস ১৬ হাজার ১৩০ টাকা করে বেতন দেওয়ার কথা ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একতা ট্রেডার্স আউটসোর্সিংয়ের নতুন ইজারা পেতে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের ইজারা অনুমোদনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করছে। এ নিয়ে দু'পক্ষের দর কষাকষি চলছে। এর ফলে আটকে পড়েছে কর্মরত ওই ১৭ কর্মচারীর বেতন ও জীবিকা।

আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০২০ সালের জুলাই থেকে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। তাদের নতুন করে নিয়োগ না দিলেও পুরোনো পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। এ নিয়ে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ায় তাদের জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×