টিপু রাজাকারের ফাঁসির রায়ে খুশি শহীদদের সন্তানরা
আবদুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকার
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৮ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:১৫
'রায়ে আমরা খুশি হয়েছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা যে বিচার চেয়েছিলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে, সে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এখন একটাই দাবি যেন দ্রুত রায় কার্যকর হয়।' -এভাবেই টিপু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান শহীদ বাবর আলীর সন্তান শাহজামান।
বুধবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর আবদুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার রায় ঘোষণা হবে- এ খবর আগেই পেয়েছিলেন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা। তারা সকাল থেকেই একে একে নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। রায় শোনার পর পরই তারা উচ্ছ্বসিত হন। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা। তবে এ সময় স্বজন হারানোর স্মৃতি ও বেদনায় আরও একবার ব্যথিত হন তারা। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।
শাহজামান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শহরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে টিপু রাজাকারের নেতৃত্বে তার বাবাকে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েক দিন নির্যাতনের পর হলের পেছনে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুঁতে রাখে। পরে তাদের তালাইমারীর বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে আগুন দেয় টিপু রাজাকার ও তার সহযোগীরা।
রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ শফিউদ্দীনের একমাত্র সন্তান জয়নুব বেগম। তিনি বলেন, তার বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধরে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
শহীদ আফিল উদ্দিনের মেয়ে বিলকিস বানুও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। আফিল উদ্দিনও ব্যবসায়ী ছিলেন। তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।
- বিষয় :
- টিপু রাজাকারের ফাঁসি
- রাজশাহী
